এইচআইভি সংক্রমিত এক নারী আবেগজড়িত কন্ঠে বলেছেন, আমি আমার স্বামীর কাছথেকে এই ভাইরাছটি পেয়েছে। এর দায় এসেছে পড়েছে এখন আমর কাঁধে।এখন আমি অসহায় জীবনজাপন করছি। সিলেটের এই নারী দুর্ভাগ্যের কথা কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।তিনি আরও বলেন, আমি আমার নিজের চোখে আরও কয়েকজনের দুর্ভাগ্যবরণের চিত্র দেখেছি। এইচআইভি সংক্রামনের খবর ছড়িয়ে পড়লে মানুষ তাদের মেরেছে, অপবাদ দিয়েছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এই অবস্থার পরির্বতনে তিনি সমাজের সম্মিলিত উদ্দ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
বিশ্বব্যাপী নানা কারনে এইচআইভি সংক্রাসমণের ক্ষেত্রে নারীরা বেশি ঝুকিতে রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এই ঝুঁকিকে বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখা যায় কোন কোন স্বামী ভিবিন্ন জায়গায় গিয়ে অনিরাপদ যৌনকর্মে মিলিত হয়ে নানা ধরনের রোগব্যাধি শরীরে করে নিয়ে আসে। পরে স্ত্রীর সঙ্গে মিলনের সময় তাকেও সংক্রামিত করে এসব জটিল ব্যাধি। তা ছাড়া আমাদের মত দেশের বাস্তবতায় যৌন আচরণে নারীর কোন ভূমিকা থাকেনা ইচ্ছার বিরুদ্ধেও স্বামীর চাহিদাকে মূল্য দিতে হয়।
বাংলাদেশের উইমেন্স হেলথ কোয়ালিশনের উপর্নিবাহী পরিচালক ডা.জুলিয়া আহমেদ বলেন, পুরুষের তুলনায় অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করেও আমাদের দেশের নারীদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। আর তা কেবল স্বামীদের কারনেই তা বলব না। নারীরা নানা ভাবে যৌন হয়রানি আর পাচারের শিকার হচ্ছে, যা তাদের ঝুঁকির মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এইচআইভি/এইডস থেকে রার জন্য নারীদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য আসার কোন সুযোগ নেই। তা ছাড়া এ সংক্রান্ত যে সেবগুলো আমাদের দেশে আছে তা একদিকে পর্যাপ্ত নয়। যেটুকু রয়েছে তা নারীবান্ধব নয়।এইডস সমর্্পকিত যৌথ জাতিসংঘ কর্মসূ্চি (ইউএনএইডস) তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে সম্ভাব্য ১৩ হাজার এইচআইভি আক্রান্তের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ জন নারী। প্রতিবিদনে বলা হয়েছে সারা বিশ্বে প্রতি ১৪ সেকেন্ডে একজন করে এইচআইভিতে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে, তার বেশির ভাগই নারী।
অন্যদিকে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) প্রকাশিত 'মেকিং ওয়ান বিলিয়ন কাউন্ট ইনভেষ্টিং ইন এডোলেসেন্টস হেলথ অ্যান্ড রাইটস' শীষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানা কারনে পুরুষের তুলনায় নারীরা এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ার ঝুকিতে থাকে বেশি। এই ঝুঁকি হ্রাসে নারীর মতায়ানের কথা বলা হয়েছে এতে। আন্তজাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর ভিসিটি ২০০২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত রক্ত পরীক্ষা করতে আগতদের ৪৭ জনের শরীরে এইচআইভির উপস্তিতি পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১২ জন নারী এবং তাদের বেশির ভাগই স্বামীর মাধ্যে ভাইরাসটি পেয়েছে। সংক্রমিত ১২ জন নারীরর সাতজনের স্বামীই আবার দেশের বাইরে থাকে। সংখ্যাটি কম হলেও আমাদের মত দেশের প্রোপটে তা রীতিমত উদ্বেগের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলইজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, এইচআইভি সংক্রমিত কারও সঙ্গে যৌন মিলনের ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীর দুই থেকে আড়াই গুন বেশি ঝুঁকি থাকে। সুতরাং এইদিক বিবেচনায় আনলেও নারীর ঝুঁকি বেশি।
বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশুকে জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করা হচ্ছে। তাছাড়া পাচারের শিকার হয়ে অনেক নারী দুর্ভাগ্যকে বরণ করে নিয়েছে। যশোরের বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বিপুলসংখ্যক নারী পেটের দায়ে চোরাচালান কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা ভিবিন্ন সময় ভারত বাংলাদেশ উভয় দেশেরই সীমান্তরী বাহিনী সদস্যদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়।
এমনই একজন নারী জানালেন, পেটের দায়ে তারা অনেক বড় ধরনে ঝুঁকি নেওয়া থেকেও পিছিয়ে আসেনা। এসব নারী বহুমিলনে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন যৌন রোগসহ এইচআইভি/এইডস ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন নারী সংস্থা হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন সীমান্তপথে হাজার হাজার নারী পাচারের শিকার হচ্ছে। কেউ কেউ দারিদ্র্যেও কারণে উন্নততর জীবনের হাতছানিতে স্বেচ্ছায় চলে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এবং যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়। আর বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার এসব নারী ।
এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই বেঁচে থাকে।
|