.
চোখের আড়ালে সংক্রমণ বাড়ছে
-কুররাতুল-আইন-তাহমিনা, প্রথম আলো, ১-১২-০৬

খুলনার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে আফিয়ার (প্রকৃত নাম নয়) দিন কাটে জীর্ণ বিছানায় শুয়ে। শরীর তাঁর বিছানার সঙ্গে মিশে গিয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন ছোট তাঁর মেয়ে বড় হবে, সুস্থ থাকবে। আফিয়া ও তাঁর মেয়ে দুজনেরই শরীর আছে এইচআইভি ভাইরাস, যার কারণে এইডস রোগ হয়। ৩০-৩৫ বছর আগে আফিয়ার পরিবার ভারতে চলে গিয়েছিল। বড় হয়ে সেখানেই তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী কাজ করতেন দূরে কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই শয্যাশায়ী হয়ে ঘরে ফেরেন। মেয়ের বয়স এক বছর না হতেই তিনি মারা যান। আফিয়া নিজেও প্রায়ই আমাশয়, অর্শ আর জ্বরে ভুগতে থাকেন। একসময় পরিবারসহ নিঃস্ব অবস্থায় তিনি দেশে ফেরেন। এ বছর গোড়ায় খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে তাঁর রক্তে এইচআইভি ধরা পড়ে। কাছেই আরেকটি গ্রামে কথা হয় কামরুদ্দিনের (প্রকৃত নাম নয়) সঙ্গে। মাস ছয়েক আগে তাঁর স্ত্রী এবং বাচ্চা মারা গেছেন এইডস হয়ে। তিনি নিজে এবং তাঁর বাকি দুই শিশুসন্তানও এইচআইভি সংক্রামণের শিকার। প্রথম বাচ্চা হওয়ার সময় খুলনার একটি সরকারি হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীকে ছয় ব্যাগ কেনা রক্ত দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করেন, তা থেকেই পরিবারটিতে এ ভাইরাস ঢোকে। বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের পারস্পারিক সহায়তার ল্যে গড়ে ওঠা দুই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) একটি আশার আলো সোসাইটি। ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩২৮ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিএর সদস্য হয়েছেন। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাবিবা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছে। এ বছর আমাদের নতুন সদস্য হয়েছে ১০৭ জন। হাবিবা জানান, তাঁদের বেশির ভাগ সদস্য বিদেশফেরত অভিবাসী শ্রমিক ও তাঁদের স্ত্রী-সন্তান। ১৯৯০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এইচআইভি সংক্রমিত যত বাংলাদেশিকে চিহ্নিত কার গেছে, তাঁদের অধিকাংশই এমন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসজীবনে ঝুঁকি থাকে ঠিকই। তবে অভিবাসীদের সংখ্যা বেশিষ দেখতে পাওয়ার মূল কারণটা অন্য। তাঁদের বাধ্যতামূল্যক রক্ত পরীা করাতে হয়। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, নেশার সময় সুঁই সিরিঞ্জ ভাগাভাগি, অনিরীতি রক্ত নেওয়া, চিকিৎসার সময় অশোধিক অন্ত্রপাতি-সরঞ্জাম ব্যবহার বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের এ সবগুলো ঝুঁকিই অনেক। আছে সচেতনতা ও সঠিক তথ্যের অভাবে। মহামারির অশনিসংক্র ঃ সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে এমন কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক রক্ত-নিরীা ও আচরণের সমীা চালাচ্ছে। গত বছরের রক্ত নিরীায় ঢাকা অঞ্চলে সুঁইয়ের মাধ্যমে নেশা গ্রহণকারীদের (ইনজেকর্টিং ড্রাগ ইউজার বা আইডিইউ) মধ্য এইচআইভি সংক্রমণের শতকরা হার ছিল চার দশমিক নয়। ২০০৫-০৬ সালের নিরীাটির ফলাফল আজ শুক্রবার প্রকাশ হবে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এবার ঢাকায় আইডিইউদের মধ্যে এ হার বেশ বেড়ে ঘনীভুত মহামারি শুরু হয়েছে। নিরীাভুক্ত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সার্বিকভাবে সংক্রমণের হার অবশ্য এখনো কম-শতকরা একজন নিচে। ঝুঁকির থাকা লোকদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার যদি পাঁচ শতাংশ ছাড়ায় তবে সেটাকে ঘনীভূত মহামারি বলা হয়। এটা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অশনিসংকেত। জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশির এইচআইভি থাকলে সেটাকে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সরকারের ঝুঁকি-নিরীক্ষায় অন্তভূক্ত আছেন নির্বাচীত এলাকায় আইডিইউ, নারী ও পুরুষ যৌনকমর্ী, সমকামী পুরুষ হিজড়া এবং হেরোইন আসক্ত ব্যক্তি। এ ছাড়া আছে রিকশাচালক, ট্রাকচালক ও ট্রাকশ্রমিক, বন্দর শ্রমিক এবং যৌনকমীদের নিয়মিত সঙ্গী- যাঁদের মাধ্যমে বৃহত্তম সমাজে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে পারে। তবে অভিবাসী শ্রমিকেরা ঝুঁকি নিরীাভুক্ত নন। সরকারের রক্ত নিরীাগুলো পরিচালনা করে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি। প্রতিষ্ঠানটির এইচআইভি এইডস কর্মসূচির প্রধান ড. তসনীমা আজীজ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন তাঁরা সাধারণ জনগোষ্ঠীরই অংশ। তাঁদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হবে অন্যভাবে। আরেকটি লুকানো ঝুঁকির উৎস বসায় থেকে কাজ করা যৌনকর্মীরা। তাঁদের সংখ্যাও অনেক। উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত মানুষদের কথাও কিন্তু জানতে পারছি না। এ নিরীায় যাঁদের দেখা হচ্ছে, তাঁর কমবেশি এইচআইভি প্রতিলোধ কার্যক্রমের আওতায় আছেন। তবে ড. তাসনীম আজীম মনে করেন, দুর্বলতাগুলো সত্ত্বেও এ নিরীক্ষা বিশেষ গোষ্ঠীগুলোর মোটামুটি সঠিক চিত্রই দিচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এইচআইভি-বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) ডা. এ এস এম মতিউর রহমান বলছেন, ১৭ বছর ধরে আমাদের দেশে এইচ আইভি সংক্রমণ কমই আছে। এ অবস্থায় উচ্চ-ঝুঁঝিতে থাকা গোষ্ঠীগুলোর ওপরেই নজর রাখতে হয়। তবে এবারের আইডিইউ পরিস্থিতি আবারও বলছে, নিশ্চিন্ত থাকার কোন সুযোগ নেই। আমাদের ঝুঁকি যথেষ্ঠ।

ভালো থাকবেন যেভাবে

এইচআইভ আর এইডস এক নয়। এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনো-ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস) হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাস (রেট্রোভাইরাস) এ ভাইরাস যার শরীরে আছে তাকে এইচআইভ প্রজিটিভ' বলা হয়।

এ ভাইরাস দেহের রোগ প্রতিরোধ মতাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মানুষ জ্বর-ডায়রিয়া থেকে য্না-নানা সংক্রামক রোগে সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ মতা একেবারেই কমে গেলে এবং অন্য অসুখবিসুখে ভুগতে থাকলে সে অবস্থাটিই এইডস রোড। তবে ঠিকমতো পুষ্টি পেলে, পারিবার-পরিজনের সঙ্গে থাকলে, মন ভালো থাকলে সেবা যত্ন-আদর পেলে এইচআইভি সংক্রমণের পরেও মানুষ অনেক বছর কাজকর্ম করে ভালো থাকতে পারে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ মতা বেশি নিচে নেমে গেলে অ্যান্টিরেট্টোভাইরাল ওষুধ দিতে তা বাড়ানো যায়। সতর্ক থাকলে এইচআইভি সংক্রমণ এড়ানো যায়। এইচআইভি ছড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে, তবে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি মাত্র উপায়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌনকাজ করলে, তার রুক্ত নিলে অথবা তার ব্যবহৃত সুঁই সিরিঞ্জ বা চিকিৎসার অপরিশোধিত অস্ত্রপাতি ব্যবহার করলে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত গর্ভে থাকা অবস্থায় ও প্রসবের সময় শিশুর এ রোগ হতে পারে। আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খেলেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। যৌনকাজ কনডম ব্যবহার করলে, অন্যের ব্যবহার করা সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহার না করলে রক্ত দেওয়া বা নেওয়ার আগে পরীা করিয়ে নিলে এবং রক্ত পরিসঞ্চালনের বা চিকিৎসার যেকোন অস্ত্রপাতি-সরঞ্জাম জীবানু মূক্ত করে নিলে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছুঁলে বা ধরলে এক পুকুরে গোসল করলে এক টয়লেট ব্যবহার করলে এক বিছানায় ঘুমালে এক থালা বাটিতে খেলে বা তার হাঁচি-কাশির মাধ্যমে কিম্বা মশার কামড়ে এ সংক্রমণ হয় না।

ঝুঁকির নানা দিক ঃ পুরান ঢাকায় এনজিও ক্রিয়াতে চিকিৎসাধীন একজন এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি গত ১২-১৩ বছর সুঁইয়ের মাধ্যমে নেশা করেছেন। রাস্তায় থাকতে বন্ধুবান্ধব শিলেঝুলে সুঁই সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছেন। আইডিইউদের মধ্যে এ চর্চা নিয়মিত। সরকারের ২০০২ সালের ঝুঁকি নিরীা ঢাকায় প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতাভূক্তদের ৫৮ শতাংশ আর অন্যদের ৭১ শতাংশের মধ্যে এ প্রবণতা দেখেছিল। এরা কনডম ছাড়াই যৌনকমর্ীদের কাছে যান, আবার ঘরে হয়তো স্ত্রী আছে। সরকারের হিসাবে দেশজুড়ে আইডিইউদের সংখ্যা ৪০ হাজার । এই মূহুর্তে এদের মাত্র নয় হাজার ৫০০ জনের মধ্যে প্রতিরোধমূলক কাজ হচ্ছে। সরকারের কর্মসূচির আওতায় এ কাজ করছে দুটি এনজিও। এদের একটি কেয়ার বাংলাদেশ ঢাকার আইডিইউদের মধ্যে কাজ আছে ১৯৯৮ সাল থেকে। তাদের এইচআইভি কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মুনির আহমেদ বলছেন, দ্রুত আরও বেশি কাজ দরকার। ডা. আহমেদ বলেন আমাদের সীমান্তঘেষা ভারতের মনিপুর রাজ্যে এক বছরে (১৯৯০ থেকে ১৯৯১) এইচআইভি সংক্রমণ মূণ্য থেকে ৫০ শতাংশ লাফ দেয়। ১৯৯৭ সাল নাগাদ তা ৮০ শতাংশ হয়ে যায়। কাঠমান্ডুতেও একই রকম হয়েছে। দুই জায়গায় কোনো জায়গাতেই ভালো প্রতিরোধ কর্মসূচি ছিল না। নীতি-নির্ধারকেরা ছিলেন নিশ্চিন্ত, নিশ্চেষ্ট। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে যৌনপল্লী ও রাস্তায় বা হোটেলে কর্মরত যৌনকমর্ীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে এক লাখেরও বেশি। ঝুঁকি নিরীা বলছে, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের যৌনকমর্ীদের খদ্দেরের হার যেমন সবচেয়ে বেশি, তেমনি কনডম ব্যবহারের হার সবচেয়ে কম। এদের মধ্যে সিফিলিস আক্রান্তের হারও অনেক বেশি, যা এইচআইভির ঝুঁকির কথাই বলে। সর্বশেষ প্রাক্কলনে সরকারে বলেছে, এ দেশে এইচআইভ/এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা হতে পরে সাত হাজার ৫০০। ইউএনএইডস গত বছর বলেছেন সংখ্যাটা ১১ হাজার। সরকার তখন ৬৫৮ জনের এইচআইভি সংক্রমণ নিশ্চিত করেছিল। এদের ১৩৪ জনের এইডস হয় এবং ৭৪ জন মারা যায়। খুলনায় ১৬ জন সবদস্য নিয়ে চলছে এইচআইভ সংক্রমিত ব্যক্তিদের নিজস্ব সংগঠন জিয়ন বাংলাদেশ। এর সঙ্গে আছেন মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এইচআইভি অনেক ছড়াইছে। অনেক গোপন আছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সৈয়দ মো. আল আমিন খুলনা এবং আশপাশের এলাকায় রোগী দেখছেন ২০০২ সাল থেকে। তিনি বলছেন এ পর্যন্ত প্রত্য ও পরোভাবে তাঁর কাছে পরামর্শ ও চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৭০ জন এইচআইভি আক্রান্ত। অধেকের বেশি সচ্ছল উচ্চ মধ্যবিত্ত। আশার আলো'র ১৩৭ জন সদস্যই সিলেট অঞ্জলের। সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ডা. সিরাজ উদ্দিন এদের ছাড়াও গত পাঁচ বছরে ব্যক্তিগত চেম্বারে ১৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি বলেন অন্য দু-একজন ডাক্তারও এমন রোগী পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাৈমস ১৫ বছর ধরে এইচআইভি রোগী দেখছেন। প্রথম দিকে তিনি মিয়ানমারের ১১ জন আটককৃত জেলেরও চিকিৎসা করেছেন। নিজের চেম্বারে বাংলাদেশি মানুষ তিনি দেখেছেন ৬১ জন। এদের ২৬ জন মারা গেছেন। এখন যে ৩৫ জন আছেন তাঁদের বেশির ভাগই উচ্চ-মধ্যবিত্ত। এ ছাড়া তিনি আশার আলোর ৭৯ জনকে দেখছেন। ঢাকায় এনজিও কনফিডেনশিয়াল অ্যাপ্রোচ টু এইডস প্রিভেনশন-ক্যাপ' ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার জনের রক্ত পরীা করেছে। তারা এইচআইভি সংক্রমণ পেয়েছে ১৪৯ জনের। আশার আলো এবং সমমনা প্রতিষ্ঠান মুক্ত আকাশের ঢাকার সদস্যসংখ্যা যথাক্রমে ১১২ ও প্রায় ১০০।

চোখের আড়ালে বাড়ছে: ১৯৮২ সাল থেকেই এইচআইভি/এইডসবিষয়ক কাজের সঙ্গে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমএইউ) ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম তিনি বলেন, আমি বলব আমরা ভীষণ একটা বিপদের মধ্যে আছি। দেশজুড়ে পুরো পরিস্থিতিটা আমরা আসলেই কি জানি? একাদিক গবেষণায় দেখা যায়, বিয়ের আগে বা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক এ সমাজে যথেষ্ট আছে। ঝুঁকি নিরীক্ষার বাইরে রয়ে যাচ্ছে অভিবাসী শ্রমিক, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত লোকজন, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবতর্ী এলাকার বাসিন্দারা এবং সমুদ্রগামী জেলে ও মাঝিরা।

ইউএনআইভি সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৫৭ লাখ। মিয়ানমারে এ সংখ্যা তিন লাখ ৬০ হাজার। সেখানে মহামারি এসে গিয়েছে। দু্িট প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়েই বহু মানুষের চলাচল আছে। গতবারের ঝুঁকি নিরীক্ষায় সীমান্তবর্তী তিনটি শহরে খগুকালীন যৌনকর্মীদের দেখা হয়েছে। ভারত সীমান্তের মেয়েরা প্রায়ই ওপারে গিয়েও কাজ করেন। ইউএনএইডসের অ্যাডভোকেসি অ্যাডভাইজার লাজিনা মুনা বললেন, আমরা সংক্রমণ কম বলছি মূলত একই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বারবার নিরীার ভিত্তিতে। হয়তো আমরা ঠিক জায়গায় দেখছি না। অভিবাসীসহ সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছায় পরীা করাতে আগ্রহী হতে হবে, সে সুযোগ থাকতে হবে। আক্রান্তদের চিকিৎসাসহ দেখাশোনার ব্যবস্থা খুব জরুরি কিন্তু সেটা উপেতি হচ্ছে। লাজিনা আরও বলছেন, বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি বেশি ঝোঁক দেওয়ায় সমাজ তাঁদেরকে আরও দুষছে। তাঁদের বিষয়টি গোপন রাখার ঝোঁক বাড়ছে। বাড়ছে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও। আর বাড়ছে তাদের দুর্ভোগ।
www.panossouthasia.org www.panosaids.org www.panossouthasia.org www.machizo.com