.
টাকা অনেক এসেছে কাজ অনেক বাকি
-কুররাতুল-আইন-তাহমিনা, প্রথম আলো ৪ ডিসেম্বর ২০০৬

কৃষক পরিবারের ছেলে আরিফ আহমেদ ২০০২ সালে ধারকর্জ করে মধ্যপ্রচ্যের একটি দেশে কাজ করতে যান। ২০০৪ সালে কাজের চুক্তি নাবায়নের জন্য তাঁকে ডাক্তারি পরীা করাতে হয়। তারপর আরও ১০-১২ জনের সঙ্গে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আরিফ আবছা শুনেছিলেন, তাঁর কোনো রোগ হয়েছে। বাড়ির পাশের শহরে এক ডাক্তর কাগজপত্র দেখে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করান। তারপর তিনি রায়, দেন আরিফের এইডস হয়েছে। তিনি আর বাঁচবেন না। গ্রামে জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশ চৌকিদার বাড়িতে হানা দেয়। আরিফ পালিয়ে যান। বহু ঘাট ঘুরে তিনি ঢাকায় আসেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম তাঁকে পাঠান এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তাকারী একটি এনজিওর কাছে। আরিফ তত দিনে খুবই দুর্বল একেবারে হতাশ। কিন্তু পরামর্শ আর চিকিৎসা পেয়ে আজ তিনি ভালো আছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরিও করছেন। তবে এমন সুযোগ আরিফের মতো লোকজন খুব কমই পান।

কিছু বড় উদ্দেগঃ এইচআইভি আক্রান্তদের পারস্পারিক সহায়তার ল্যে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) আশার আলো
টাকা অনেক এসেছে, কাজ অনেক বাকি সোসাইটি। দেশে এই রোগ প্রতিরোধ করাও তাদের ল্য। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাবিবা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসা আর সেবা-সহায়তার জন্য ফান্ড আছে খুব কম। তাদের কাছে থেকেই তো এটা ছড়াতে পারে। সহায়তা আর ভরসা না পেলে তারা কি নিজেদের প্রকাশ করবে, সচেতন হবে? তখন এ সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে কীভাবে? অন্যরা জানান, সরকার লচে এ কাজের জন্য অনেক টাকা আছে। অথচ শুধু দিচ্ছি দেব চলছে। এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে এখন চলতি সবছেয়ে বড় দুটি প্রকল্পসরকারের। কোনোটিতেই এইচআইভি আক্রান্তদের সেবা-সহায়তার জন্য বরাদ্দ নেই। অন্যদিকে সরকারের এবারকার এইচআইভি ঝুঁকি-নিরীাটি বলছে, সুইয়ের মাধ্যমে নেশা গ্রহণকারীদের মধ্যে এ সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ঢাকা অঞ্চলে এদের মধ্যে দেশেজুড়ে মাত্র এক-চতুর্থাংশ আইডিইউর মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধের কাজ হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা একটি বড় গোষ্ঠী নারী যৌনকমীরা। দুই দশক ধরে এদের মধ্যে কাজর অত্যাবশ্যক অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি আত্নসহায়তা সংগঠন। আন্তজাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির এইচআইভি/এইডস কর্মসূচির প্রধান ড. তাসনীম আজীম বলছেন, বিভিন্ন কার্যক্রমের সুবাদে কিছু সেবা এদের কাছে পৌছেছে। তবে তাদের মতা বাড়ানোর বিষয়টি অবহেলিতই রয়ে গেছে। তিনি বলছেন, যৌনকমীদের নিজেদের অবস্থান শক্ত না করতে বাধ্য করাতে পারবে না। ঝুকিতে থাকা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধের কাজে সাথি-শিক (পিয়ার এডুকেটর) বামাঠকমী হিসেবে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি প্রতিরোধের কাজে আত্নসহায়তা সংগঠনগুলোও গুরুত্ব অনেক। সংগঠনগুলো অনেক ক্ষেত্রে বড় এনজিওদের সহাযোগী হিসেনবে কাজ করলেও তেমন অর্থ বরাদ্দ পায় না। এদিকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসিদের মধ্যে কিছু কাজ হলেও আরিফের মত বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের নিয়ে কাজ তেমন হচ্ছে না। সরকারের একটি প্রকল্পে এটা করার কথা থাকলেও বাদ পড়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা বলছে, প্রায় দুই দশক কাজ হয়েছে কিন্তু এইচআইভি/এইডস বিষয়ে মানুলের মধ্যে সচেতনতা ও সঠিক তথ্যের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। কনডম ব্যবহারের মতো নিরাপদত আচরণও বাড়ছে না। বিশ্বব্যাংকসহ একাদিক দাতা এব সরকারি বেসরকার প্রকল্পগুলোর অনেকে অবশ্য প্রথম আলোকে বলেছেন প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারে এইচআইভি সংক্রমণ অনেক হলেও ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশে এটা কমই আছে। তাঁরা মনে করেন, এটা প্রতিরোধ কার্যক্রমগুলোর একটা বড় অর্জন। তবে ড. আজীম বলছেন, যত টাকা দেশে এসেছে তাতে কাজ আরও বেশি হতে পারত।

কত টাকা কী কাজ হচ্ছেঃ বাংলাদেশে এইচআইভ প্রতিরোধের কাজ প্রায় সবই চলছে দাতাদের অর্থে। এ কাজ েএখন মোট তহবিল আছে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি। সরকারের চলমান দুটি বড় কার্যক্রমের একটি এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ প্রকল্প (হ্যাপ)। বিশ্বব্যাংকের ৪ (কোটি) ডলার এবং যুক্তরাজ্য সরকারের দাতা সংস্থা ডিএফআইডির ১ কোটি ডলারসহ ৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের এ প্রকল্প শুরু হয় ২০০০ সালে। কিন্তু কাঝে ধীরগতির জন্য ২০০৩ সালে টাকাটা অর্ধেক হয়ে যায়। সরকারের দ্বিতীয় প্রকলল্পটিতে প্রায় ২ কোটি ডলার দিয়েছে আন্তর্জাতিক মোর্চ গ্লোবাল ফান্ড ফর এইডস টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া (জিএফএটিএম) প্রকল্পের ল্য তরুণদের মধ্যে এইডম প্রতিরোধ সচেতনতা সৃষ্টি। পাশাপাশি ২০ টি জেলার তরুণদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চলা সব কাজের সময়ম্বয় ও খোঁজাখবর করার দায়িত্ব জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের (এনএএসএপি) তারা জানায়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ১ কোটি ডলার দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে। এগুলোর বাইরে আছ মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডর ১ কোটি ২৫ লাখ ডলার ও ২০ লাখ ডলারের মতো জার্মান সাহায্য। বিভিন্ন সরকার ও দাতা গোষ্ঠী সরাসরিও বেশি কিছু টাকা দেয়। কাজ এখনো শুরু হয়নি, তবে স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতে ২০১০ সাল আন্দি সরকারের যে কার্যক্রম (এইচএনপিএসপি) তাতে এর জন্য বরাদ্দ আছে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ ছাড়া সরকার সমপ্রতি জিএফএটিএমের আরও ৪ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। কম প্রকোপের দেশ হিাসেবে বাংলাদেশে এইচআইভি প্রতিরোধের কাজগুলো মূলত হচ্ছে ঝুঁকিতে থাকা গোষ্ঠীগুলোর ভেতরে। হ্যাপের ৬০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ এ কাজেই। বাস্তবায়ন করছে ৩৪টি এনজিও। সচেতনতা সৃষ্টির কাজ ছিল আরও ৭৪টি এনজিও। হ্যাপের মধ্যেই আছে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন। আরও আছে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করা ল্যে তথ্য প্রচারণা এবং এনএএসপির প্রাতিষ্ঠানিক দতা বৃদ্ধি করার কাজ। এসব কাজ চলবে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। হ্যাপ পরিচালনা করচে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ১৭টি এনজিও এবং কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জিএফএটিএমের কাজ পরিচালনা করছে সেভ দ্য চিলড্রেন ইউএসএ। এনএএসপির হিসাবে দেশে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে কাজ করেছ ৩৮৫টি এনজিও। সব কোজ ঠিকমতো চলছে কি না, তা নিয়ে এনজিও মহলে প্রশ্ন আছে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে অনভিজ্ঞ কিছু এনজিও কাজ পেয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এইচআইভি বষিয়ক প্রধান উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) ডা. এ এস এম মতিউর রহমান বলছেন, কাযকর নজরদারি ও মূল্যায়নের জন্য এনএসএপিকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।

সুঁইয়ের নেশা:
সরকারি হিসাবে দেশে সুঁই দিয়ে নেশা গ্রহণকারী (আইডিইউ) আছে ৪০ হাজারের মতো। কাজ হচ্ছে মূলত হ্যাপের আওতায় মাত্র নয় হাজার ৫০০ জনকে দিয়ে। কাজটা করছে কেয়ার বাংলাদেশ ও পদপে। কেয়ার অনেক আাগ থেকে ঢাকার আইউইউদের মধ্যে কাজ করেছে। একাধিক গবেষক মনে করেছে এটা না থাকলে এখানে সংক্রমণের হার আরও বাড়ত। এইচএনপিএসপি এবং ডিএফএটিএমের প্রতিশ্রুত নতুন প্রকয়ে আরও ১০ হাজার করে আইডিইউর মধ্যে কাজ হগওয়ার কথা আছে । সবাই বলছেন দ্রুত আরও কাজ দরকার। আইডিইউদের মদ্যে সুঁই ভাগবাগি করার কারনে এইচআইভির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এ ঝুঁকি কমানেরা জন্য এনজিও দুটির অন্যতম কাজ হলো, এদের মধ্যে সুঁই-সিরিঞ্জ বিতরণ করা। কেয়ারের এইচআইভি কমসূচির প্রদান ডা. মনির আহমেদ জানান, জাতীয় পর্যারে পরিকল্পনায় এক অনুমোদন থাকলেও েনেশার জন্য সুঁই দেওয়াটা বেআইনি। প্রথম আলোর তিনি বলেন সরকারের সহায়তার আমরা বোআইনি কাজ করছি কেননা ভালো ফল পাচ্ছি। তবে সহায়ক আইন খুবই দরকার। ডা. আহমেদ আরও জানান, সুইয়ের নেশার বদলে মুখে খাওয়ার একটি মাদক দিয়ে অনেক দেশ এইচআইভি প্রতিরোধ সূফল পেয়েছে। মেজর জেনারেল (অব) ডা. রহমান বলছেন, এ মাদকাটি দেশে আনা এবং শুধু এ কাজে ব্যবহার করার জন্য আইন করতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এনজিওর কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ হুটহাট রাস্তাবাসী যৌনকমী এবং আইডিইউদের ধরে বা তাড়িয়ে দেয়। এতেও এইচআইভি প্ররোধ কাজ তিগ্রস্ত হচ্ছে।

তহবিল নিয়ে কাজ বন্ধ: সরকারের গত বছরের ঝুঁকি নিরীক্ষা আশস্কা প্রকাশ করেছেন মাঝেমধ্যেই মাঠে টাকা আসতে দেরি হওয়ার কাজের তি হয়। বিভিন্ন এনজিও সূত্রে জনা যায়, জুন মাসে হ্যাপের দ্বিতীয় পদপে শেষ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কাজ মূখ করবে পড়ে আছে। তৃতীয় পদেেপর জন্য সরকারের সঙ্গে ইউনিসেফের চুক্তি হয়েছে ১৬ অক্টোবর। তবে দাতাদের থেকে টাকা ছাড় হয়নি। ডিএফআউডির পৃথক একটি তহবিল কেয়ারের সহযোগী হিসেবে ভাসমান যৌনকমীদের নিয়ে ঢাকাসহ বেশ কয়েটি শহরে কাজ করত তাদের সংগঠন দুজয়। এ বছর তাদের কাজ একটি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও এনেছে। কিন্তু জানুয়ারিতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কনডম বিতরনসহ দুজয়ের সব কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনিতেই কনডম সরবাহে মাঝেমধ্যে পাওয়াই যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।

এইচআইভি সংক্রমিতদের সংগ্রামঃ সরকারের এইচএনপিএসপিতে ৮২০ জন এবং ডিএফএটিএমের আগামী প্রকল্পটিতে এক হাজার ৫০০ জন এইচআইভ আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎস সহায়তার ব্যবস্থা আছে। তবে এগুলো কবে মিলবে তা সুনিশ্চিত নয়। খুলনার প্রত্যন্ত গ্রামে এইচআইভি আক্রন্ত অফিয়ার (প্রকৃত নাম না) পুষ্টিকর থাকার দরকার। ওষুধ দরকার। নিতটি এনজিও থেকে কিছু কিছু সাহায্য পান, কিন্তু তাতে কুলায় না। এইচআইভ আক্রান্তদের সহায়তারন জন্য কাজ করছে একজিও মুক্তি আকাশ বাংলাদেশ। সংয়স্তার নির্বাহী পরিচালক এম এস মুক্তি বলেন আমার প্রকল্প পাই অল্প টাকার স্বল্প মেয়াদের হতে বিশেষ কিছু করা যায় না। আমার আলোর হাবিবা আক্তার বলের একটা পর্যায়ে এইচআইভির যে অ্যান্টিরেট্টোভাইরাল ওষুধ লাগে সেটার খরচ তো প্রচুর। এ ছাড়া নানা রকম সংক্রমণ বাবদ মাসে একেকজনের চিকিংসা খরচ অনেক পড়ে। হাবিব জানা সরকারি হাসপাতালের মধ্যে শুধু ঢাকার সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের সাততলায় ছয়টি শয্যায় এইচআইভি রোগী ভর্তি নেয়। কিন্তু কেউ সেখানে যেতে চান না। কারণ ঘর-টয়লেট অপরিচ্ছন্ন লিফট খারাপ হয়ে আছে বহু দনি এবং ডাক্তাররা নিয়মিত দেখেন না। অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম আপে ১৯৯০ সালে যখন এইচআইভি আক্রন্ত প্রথম বাংলাদেশি রোগী পাই, তখন থেকে বলে আসছি ডাক্তার নার্সদের তৈরি করতে হবে তাদের আড়ষ্টতা-ভীতি ভাঙ্গতে হবে। আক্রান্দদের শারীরিক-মানসিক সব রকম সেবা সহায়তা লাগভে এত বছরে এত টাকা এসেও সেই প্রস্তুতি নেওয়া হলো না।

ভুল জানা এবং ভীতি-বৈষম্য

জিএফএটিএমের চলতি প্রকল্পের আওতায় ২০০৫ সালে প্রায় ১৩ হাজার ১৫-২৪ বছর বয়সী ছেলেমেয়ের ওপর একটি জরিপ করা হয়। দেখা যাচ্ছে তাদের শতকরা ৮৫ জনেরও বেশি এইচআইভি/এইডসের নাম শুনেছে মাত্র ২২ শতাংশ সঠিকভাবে জানে কীভাবে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয় আর কীবাভে তা প্রতিরোধ করা যায়। শতকরা দুজনও মনে করে না যে, তারাও এইচআইভি আক্রান্ত হতে পারে। অনেকে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য জানে। ১০টি জেলার কয়েকটি গ্রামেঞ্চলে খোঁজ করলে প্রথম আলোর সংবাদদাতা ও প্রতিনিধিরা অল্প কয়েকজনকেই পেয়েছেন যাঁরা মোটামুটি সঠিক তথ্য জানেন। অন্যদিকে তাঁরা অনেকের মধ্যে এমন ভ্রান্ত ধারণা দেখতে পেয়েছেন, যা এইচআইভ আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে ঘৃণা ও বৈষম্য বাড়াচ্ছে। বিয়ানীবাজাররে গজুকাটা গ্রামের দিনমজুর রজব আলী যেমন বলেছেন আমি হুনছি বিয়া ছাড়া বেটাবেটি নাফরমানিভাবে মিলামিশা করলে এই বেরাম আয়। ইতা আইল আল্লাহ গজব। কঙ্বাজারের রামুর রিকশাচালক খুরশিদ আলম বলেন, এইডস রোগীকে ঘরে আটকে রাখতে হয়। ব্যভিচার করলে এই রোগ হয়। চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় নানা শ্রেনী-পেশার ১০ জনের অর্ধেকই এইচআইভি ছড়ানো বা ঠেকানোর উপায় জানেন না। নেত্রকোনার ব্যবসায়ী নাজমুশ শাহদাত বলেছেন ইসলামি নিয়মকানুন না মানলে এ রোগ হয়। রংপুরের বদরগঞ্জের ব্যবসায়ী মানিক সাহা বলেছেন খারাপ মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশা করলে এ রোগ হয়। তবে ছাত্রদের কেউ কেউ পাঠ্যসুচিতে এইডসংক্রান্ত তথ্য পেতে চেয়েছে। ডিএফটিএমের প্রকল্পটির উদ্যেগে ষষ্ট থেকে দ্বাদশ শ্রেনীর পাঠ্যক্রমে এইচআইভিসংক্রান্ত তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। এতে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সম্পর্কের আলোচনা রাখা হয়েছে। সামনের বছর স্কুল-কলেজে এসব বই আসার কথা আছে।


www.panossouthasia.org www.panosaids.org www.panossouthasia.org www.machizo.com