দেশের জেলখানা গুলোতে যা বা টিবি রোগ ছড়িয়েছে বেশ জোরেশোরেই। জেলখানা ঘনবসতি হওয়াই বন্দীদের মধ্যে যা ছড়ানোর প্রধান কারন। দর্ীঘ দিন ধরে টিবি রোগে ভুগলেও বন্দীদের মধ্যে ডায়াগনসিসের অভাবে তা ধরা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ন্যাশনাল টিউবারকুলোসিস প্রোগ্রাম (এনটিপি ) দেশের জেলখানাগুলোকে টিবি রোগের চিকিৎসার আওয়তায় নিয়ে এসেছে। চট্রগ্রাম জেলখানাসহ দেশের বড় ১০ কারাগারে এনটিপির অধীনে সরাসারি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা-এনজিও যা রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। একই সঙ্গে চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে এসব জেলখানায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগার হাসপাতালের ফর্ামাসিস্টকে প্রয়োজনীয় প্রশিন দিয়ে যা রোগে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডটস (ডিরেক্টলি অবজারভড ট্রিটমেন্টের সিস্টেম) মাধ্যমে যায় আক্রান্ত বন্দীদের চিকিৎসা দেয়া এসব কারাগারে। এর বাইরে দেশের সব ক'টি জেলা কারাগারেও জেলা সিভিল সর্জাজন অফিসের মাধ্যমে যার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেয়া হয়। দেশের অন্যতম বৃহত্ত চট্রগ্রামের জেলখানায় বন্দী রয়েছে প্রায় সাত হাজার। যা বা টিবি সমস্যা বন্দীদের মধ্যে থাকলেও এর চিকিৎসা আগে সহজলভ্য ছিল না। রোগীদের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতাবোধেরও অভাব ছিল। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি এনটিপি'র সহযোগীতায় ব্রাক যার ওপর কাজ শুরু করে চট্রগ্রাম জেলখানায়। যা ছাড়ানো প্রধান কারণ হিসাবে এখানে তারা ঘনবসতিকেই চিহ্নিত করে। জেল কর্তৃপ যা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য একটি ক বরদ্দ দেয়। যেখানে ব্রাকের তত্ত্বাবাধনে বন্দীদের কফ পরীক্ষা করে যা শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়। চট্রগ্রাম জেলখানায় ব্রাকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার যা রোগী এবং এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে জানা যায়। তিনি জানান, গত দু'বছরের বেশি সময় ধরে চট্রগ্রাম জেলখানায় কাজ করছে ব্র্যাক। প্রথমে সংক্রামণের সম্ভাবনা রয়েছে এমন বন্দীদের কফ সংগ্রহ করা হয়, পরে তাদের কফ পরীক্ষা করা হয় জেলখানায় থাকা ল্যাবে। ইতিমধ্যো প্রায় পাঁচ হাজার বন্দীর কফ পরীা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২শতাধিক টিবি রোগী পাওয়া গেছে। তবে এখনও এমডিআর (মাল্টিড্রাগ রেজিস্টেল) রোগী পাওয়া যায়নি। চট্রগ্রাম জেলখানার ভেতরে থাকা ল্যাবে বন্দীদের কফ পরীাসহ যার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা রয়েছে। কফ পরীক্ষা করে কারও যা ধরা পড়লে তাদের ওষুধ খাওয়ানো শুরু করা হয়। এ ক্ষেত্রে কয়েদীরা সহযোগীতা করে থাকেন। ডটস-এর অধীনে ইতিমধ্যে ৫০ বন্দী যা ওষুধ খাওয়া নির্দিষ্ট কোর্স শেষ করেছে। এদের সকলে এখন যামুক্ত। চট্রগ্রাম জেলখানায় যা আক্রান্ত দেড় শতাধিক রোগীর চিকিৎসা চলছে। কাজের পদ্ধতি সম্পকে প্লেটো জানান, জেল হাসপাতালের দ'চিকিৎসক যাদের টিবি সন্দেহ করেন, তাদের রেফার করে পাঠিয়ে দেন তাদের কাছে। ডা. উদয় শংকর চাকমা ও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান নামে এই দ'চিকিৎসক চট্রগ্রাম জেল হাসপাতালের টিবি
রোগের চিকিৎসায় বেশ সহযোগীতা করছেন বলে প্লেটো জানান। ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোসকোপসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রয়েছে। বিনামূল্যে রোগীদের ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। জেল হাসপাতালে মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট অর্থ দরচী দেওয়ান, ফারমাসিস্ট ফখরুজামান চৌধুরী কফ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগীতা করে ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজারকে।
প্লেটো আরও জানান, বন্দীদের মধ্যে টিবি রোগ সম্পককে সচেতনতা অনেকগুন বেড়েছে। জেল কর্তপক্ষ বিভিন্ন সময়ে তাদের সভায় টিবি আক্রান্ত বন্দীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবন্থা করে থাকেন জেল কর্তপক্ষ ।
চট্রগ্রাম জেল সুপার ইকবাল হোসেন জেল থেকে বন্দীদের মধ্যে যায় আক্রান্তদের চিকিৎসা সম্পকে বলেন, ব্র্যাকের সহযোগীতায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের প্রয়োজন রয়েছে তাদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। যাতে কোন ভাবেই অন্যদের মধ্যে সংক্রামিত না হতে পারে যা। ব্র্যাকের কর্মকর্তা প্লেটো জানান, জেলে থাকাতে অনেক বন্দীর যা ধরা পড়েছে। তাদের ওষুধও খাওয়ানো হয়। কিন্তু সমস্যা হয় যখন বন্দী জামিনে মুক্তি পেয়ে হঠাৎ করেই চলে যায়। পরে ওষুধ খাচ্ছে কিনা তা তদারকি করা ঝামেলা হয়ে পড়ে। তবে তাদের নিজের এলাকায় ওষুধ সেবনের জন্য ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।
|