.
যাক্ষায় আক্রান্তদেও যেখানে চাকরি যায় না
- কবির আহমেদ খান, চট্রগ্রাম থেকে ফিরে।। / জনকন্ঠ, ২০জুন ০৭

১৯৯৯ সালের কথা, এক মহিলা শ্রমিককে অসুস্থতার জন্য চাকরিচু্যত করা হলো চট্রগ্রাম ইপিজেডের ইয়াংওয়ান গ্রুপের এক গর্ামেন্টস থেকে। বছরের শেষে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় সিউলে চাকরিচু্যতর রিপোর্টটি চোখে পড়ে মালিকের। চাকরিচু্যতর কারন জানতে চান কোরিয়ান মালিক কিয়াং সান। প্রতিষ্ঠানের প থেকে জানানো হয়, মেয়েটির যা হয়ে ছিলো, তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্থ করা হয়। ক্ষেপে গিয়ে মালিক গর্ামেন্টস কর্মীকে মালিক পুর্ণবহাল করার নির্দেশ দেন। তিনি তাদের বলেন, যা রোগের চিকৎসা রয়েছে, এর পরও তাকে চাকরি হারাতে হবে কেন? কিন্তু পরবর্তীতে তাকে খবর দেয়া হলেও আর ফিরে আসেনি।

এই অনুশোচনা থেকে শ্রমিকবান্ধব এই ধনাঢ্য মালিক চট্রগ্রাম ইপিজেডে তাঁর সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যা মুক্ত করার পদপে নেন। চট্রগ্রাম ইপিজেডে তার ১৯ প্রতিষ্ঠানের ২৬ হাজার কর্মীকে যা নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সকল ব্যবস্থা করা হয়।তাঁরই প্রতিষ্ঠানের ইয়ং ওয়ান গ্রুপের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হাঁসপাতালে যা চিকিৎসা শুরু করা হয় ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে। প্রথম দিকে ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ওষুধ কিনে দিতে হয় রোগীদের। পরবর্তীতে সরকারের এনটিপির (ন্যাশনাল টিউবারকোলসিস প্রোগ্রাম) সহযোগিতায় ইয়ং ওয়ান গ্রুপের মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্যোগে 'ডটস' পদ্ধতিতে যারোগ নির্ণয় ও এর চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়। ইয়াং ওয়ান নিয়ম করে-এখন থেকে যা হলো চিকিৎসকের পরার্মশ অনুযায়ী ছুটি দেওয়া হবে কর্মীদের। চাকরিচু্যতর প্রশ্নই আসে না। দেয়া হবে র্অথনৈতিক সহযোগিতাও। তবে আক্রান্তরে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যেতে হয় হাসপাতালে এস। যার জীবাণু ছড়াতে পারে-এমন রোগীদের তিন সপ্তাহ পযন্ত ছুটি দেয়া হয়। চিকিৎসকের বন্ধুসুলভ ব্যবহার, বিনামুল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। ছুটি ও চাকরিচু্যতর ভয়ও নেই কর্মীদের।

র্বতমানে ইয়াংওয়ান গ্রুপের চট্রগ্রাম ইপিজেডের সকল গর্ামেন্টস, সু-ফ্যাক্টরিসহ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যা চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশের অন্য প্রতিষ্ঠাগুলোতেও এ ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। বিদেশী মালিকানার ইয়াংওয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের প্রতি বন্ধুসুলভ পরিবেশ তৈরিতে এক অনন্য উদাহরন সৃষ্টি করেছে। ইয়াংওয়ান মেডিক্যাল সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ড.শ্যামল কান্তি বড় যায় সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুবিদা সমর্্পকে বিস্তারিত জানা যায়। তিনি জানান, তিনটি মেডিক্যাল সেন্টারে ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

বাংলাদেশের একমাত্র ইয়াং ওয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানেই 'ডটস (ডিবেক্টল অবজাভড ট্রিটমেন্ট)' সেন্টার চালু রয়েছে। যা সস্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০০২ সালের ২১ জানুয়ারি খেকে এখানে ল্যাব চালু করা হয়, যেখানে চিকিৎসকদের রেফার করা রোগীদের কফ পরীা করা হয়। চট্রড়গ্রাম ইপিজেডে এই গ্রুপের একটি মেডিক্যাল সেন্টার যা রোগীদের জন্য ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। মেডিক্যাল সেন্টারে যা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ওপর বেশ কয়েক জন্য চিকিৎসক, টেকনোলজিষ্ট, ফরমাসিস্টের রয়েছে উচ্চমানের প্রশিক্ষন। ডা. শ্যামল বড় যা জানান, ইয়াং ওয়ান গ্রুপের চেয়াম্যান কিয়াক্কি সান কে কোরিয়াতে ৯৫-৯৬ সালের দিকে যা রোগের চিকিৎসা অবলোকন করেন। বাংলাদেশ থেকে এক র্কমকতা ট্রেনিংয়ের জন্য কোরিয়া গেলে তাঁর যা ধরাপড়েছিল। তাঁরই চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি এই অভিঞ্জতা অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে দিকে চট্রগ্রামের ইপিজিডে তার এক গামেন্টস র্কমীকে যায় আক্রান্তেও কারনে চাকরিচু্যত করা হলো- তখন তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাঙ্গে বিবেচনা করেন। যার অভিঞ্জতায় তিনি যার চিকিৎসায় গ্রহনযোগ্য 'ডটস' পদ্ধতির উদ্ভাবক টোকিও টিবি ইস্টিটিউটের প্রফেসর ইসিকাওয়াকে চট্রগ্রাম ইপিজেডে নিমন্ত্রন করেন এবং ইসিকাওয়া ২০০১ সালে বাংলাদেশে আসেন। ইসিকাওয়া উদ্বোধন করেন ইয়াংওয়ান গ্রুপের মেডিক্যাল সেন্টার। এনটিপি যার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে।

চিকিৎসক আরও জানান, শ্রমিকদের কারও স্মিয়ার পজিটিব হলে তাদের নূন্যতম তিন সপ্তাহ ছুটি দেওয়া হয়। বোন টিবির ক্ষেত্রে ছুটি আরও বেশি পায়। ইয়াংওয়ান গ্রুপের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বান্থ্য সংস্থার 'পর্যন্ত ইয়াংওয়ান গ্রুপের সব ক'টি প্রতিষ্ঠান ২শ'১৭ জন টিবি রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চিকিৎসা সুস্থ্য হয়েছে মাত্র শতকরা ৮৭ থেকে ৯৫ ভাগ। তিনটি মেডিক্যল সেন্টারে এ পর্যন্ত ৫ জন এমডি আর (মাল্টিড্রাগ রেজ্যিস্টানন্স) যায় আক্রান্তয় রোগী পাওয়া গেছে, যাদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে রাজধানীর টিবি হাঁসপাতালে। শ্রমিকদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, টিবিতে আক্রান্ত হলে যাবতীয় চিকিৎসা তারা পান মেডিক্যাল সেন্টার থেকে। বেতন সহ প্রয়োজনীয় ছুটি দেয়া হয় যা আক্রান্তদের। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের ভাল ব্যবহার, শুধু প্রাপ্তিতে সহজলভ্যতা, চাকরির নিশ্চয়তার কারনে ইয়াংওয়ান গ্রুপের হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি যথেষ্ঠ দায়বদ্ধ। যা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে বলে শ্রমিকরাও মনে করেন।


www.panossouthasia.org www.panosaids.org www.panossouthasia.org www.machizo.com