গাজীপুর সদরের নগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা আক্তার। গার্মেন্টসে কাজ কার সে, স্বামী স্থানীয় একটি হোটেলে চাকুরি করে। অভাবের সংসারে তাদের জীবন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু মাথায় বাজ পড়ে যখন রাশিদার হঠাৎ করেই যা ধরা পড়ে। রাশিদা গার্মেন্টস যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ব্র্যাকের সেবিকার মাধ্যমে প্রথমদিকে ওষুধ গ্রহন শুরু করলেও কিছুদিন যাওয়ার পরই অভাবের সংসারে স্বামী রাশিদাকে তার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহে পাঠিয়ে দেয়।
চিকিৎসা ব্যয় কম হলেও পরো ব্যয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাতায়ত,পুষ্টিগত ঘাটিতে পূরণে রোগীকে পযাপ্ত খাবার গ্রহনে ব্যয় নিয়ে আশস্কিত হয়ে পড়ে রাশিদার স্বামী। অন্যদিকে রাশিদা চাকরিতে না যাওয়ায় আয়ও কমে যায়। শুধু রাশিদার েেত্র নয় যা রোগে আক্রান্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের অধিকাংশই টাকার অভাবে চিকিৎসা চালানো বন্ধ করে দেয়। আর দারিদ্রতাই যা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যানুসারে যা ও যা মোকাবেলার কৌশলের র্অথনৈতিক প্রভাবে আক্রান্ত ৩০ শতাংশ অদরিদ্র ব্যক্তি দারিদ্র সীমার নিচে চলে যায়।
যা নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেঞ্জরা বলেছেন, দরিদ্রদের অপুষ্টি, জনাধিক্য, অপতুল বায়ুপ্রাবহ ও অস্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ফলে যা সংক্রামণের সম্ভাব্যতা বাড়ে। সামপ্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডটস কেন্দ্রে যাওয়া রোগীর ৭০ ভাগ দরিদ্রসীমার নীচে বাস করে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পরো ব্যয় দিয়ে অপোকৃত বেশি তির সম্মুখীন হয়, আর এ জন্য যা সেবাকেন্দ্রে কম যেতে চায় এবং মৃতু্যর হার ব্যপক আর্থসামাজিক ধরনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে দারিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পরীায় দেশের বেশিরভাগ মানুষের শরীওে যার জীবানু পাওয়া যায়। বাংলাদেশে যার প্রকোপের স্বায়ীত্ব ও ভয়াবহতাকে এর বৃগত্তর আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপেেিত বঝুতে হবে। সামপ্রতিক দশকগুলোতে এ দেশ দারিদ্র হ্রাস, বর্ধিত প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, মাতৃ ও শিশু মৃতু্যহার হ্রাস এবং পুষ্টিহীনতা কমানোতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করছে। তাই তারা দারিদ্রতাকে যা আক্রান্তেও প্রধান কারন বলে চিহ্নিত করেনছেন।
বাংলাদেশের যানীতি-সুশীল সমাজের পরিপ্রেতি বিশয়ক এক বই মেলা হয়েছে, দারিদ্রজনগোষ্ঠীর একদিকে যেমন, যায় আক্রান্ত হচ্ছে,অন্যদিকে যাও রোগীকে দারিদ্রতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাদের প েচিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খরচ অপোকৃত বেশি। যা যেমন আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক কর্মমতা নষ্ট কওে তেমনি তার ওপর চেপে বসে চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা, ফলে দারিদ্রেও মাত্রা ও প্রভাব বেড়ে যায় বহুগুণে। দেখা গেছে, যায় আক্রান্তদেও ৯০ শতাংশই সবচেয়ে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক বয়স দলের, যার ফলে এরা পরিবারের কাছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশের েেত্রই দারিদ্র্য যার বড় কারন এমন নয়, তানজানিয়া, নাইজিরিয়াসহ বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর একই অবস্থা। তানজানিয়ার এক রোগীর বর্ণনা মতে, "বিনামূল্যে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পেলেও ওষুধ খুব কম উচ্চমাত্রায় হওয়ায় ওষুধের পাশপাশি পযাপ্ত খাবার প্রয়োজন। রোগিদের অধিকাংশই দারিদ্র পরিবারের হওয়ায় দু' বেলায় খাওয়ায় দায়। সে জন্য অনেক সময় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে অনেক পরিবারের যা রোগী বাধ্য হয়।"
রোগীদের মধ্যে বিশেষত যারা অপুষ্ট, এন্টিরেট্রোভারাইল ওষুধ ব্যবহারকারী, অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা জর্জরিত বা গরিব তাদের প েছয় মাসব্যপী স্বাস্থ্যবিধান মেনে চলা একটি চ্যালেঞ্জ। ঠিকমতো পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা মূলত রোগীর সময়, শক্তি ও গৃহস্থলী সম্পদের বড় বিনিয়োগর দাবি রাখে। বাংলাদেশে, বাজ্রিল, নাইজিরিয়া, তানজানিয়া ও থাইল্যান্ডের ওপর তৈরি প্রতিবেদন বলা হয়, চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান করা হলেও রোগীদের পরো ব্যয় বহন করতে হয় রোগী ও তার পরিবারকে।
পরো ব্যয় এর মধ্যে পড়ে রোগ নির্ণয়ে পরীা ব্যয়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাতায়ত খরচ, পুষ্টিগত ঘাটতি পূরণে ব্যয় র্অথাৎ চিকিৎসা চলাকালীন রোগীকে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহন করতে হয়। আবার এই সময়টাতে পেশাগত কাজে কম সময় দেয়ায় আয়ও কমে যায়। অন্যদিকে নাইজেরিয়ায় দেখা যায়, বিনামূল্যে চিকিৎসা সম্পর্কে জনগনের অপ্রতুল ধারণার কারণে বা সুযোগের অভাবে অথবা কিনিকে ভাল সেবা পাওয়ার আশায় ডটসের সার্ভিস এরিয়ে যায়। সেখানে ব্যক্তির ক্রয়মতাকে সরকারী নীতিমালার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। বেসরকারী সেবাদানকারীরা রোগ নির্ণয়ে শুধুমাত্র কফ পরীার উপর নির্ভর না করে যারা ব্যয় বহনে সম তাদের বুকের এঙ্-রে করে থাকে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৭০ ভাগ দরিদ্র যারোগী ডটসের সেবা খোঁজার আগে ঐতিহ্যগত চিকিৎসা, হোমিওপ্যাথ ও এ্যালোপ্যাথিক সেবার দ্বারস্থ হন। যেহেতু এরা অর্থের বিনিময়ে সেবা দেয়, তাই হাতে টাকা থাকলেই কেবল রোগীরা চিকিৎসা করান নতুবা একেবারেই চিকিৎসা করান না। আবার ভুল চিকিৎসায় প্রায়ই রোগীর এমডিআর যা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
|