জলুবায়ু পরিবর্তন ও দারিদ্রতা (আলোকচিত্রী: নাইমুজ্জামান প্রিন্স)
Poverty and Climate Change in Bangladesh Photostory by Nymuzzaman Prince
জলবায়ুর পরিবর্তনে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও দরিদ্রতা নিয়ে
আলোকচিত্রী নাইমুজ্জামান প্রিন্সের জলুবায়ু পরিবর্তন ও দারিদ্রতা শীর্ষক আলোকচিত্র প্রকাশনা
ধারাবাহিকভাবে ভোরের কাগজ,মেট্রোতে ২৬ আগষ্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ।
করাই বরিশাল চরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবারের বসবাস। যার বেশিরভাগই কৃষি ও মৎস্যজীবী
তাও নিজের জমি নেই বললেই চলে। প্রতি বছরই বন্যার মোকাবিলা করতে হয় তাদের। ঘনঘন প্রাকৃতিক
দুর্যোগের কারনে জীবনযাপনের মান ক্রমেই নিচে নেমে আসছে।
প্রতি বন্যাতেই তাদের কুঁড়েঘর ভেসে যায়, ভেসে যায় গৃহপালিত পশুর খাবার।
বন্যাপরবর্তী দুরবস্থা মোকাবেলায় তাদের সাহায্যের আঁশায় চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার থাকেনা।
ফলে দিন দিন তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশা বাড়ছে।
ভোরের কাগজ/ ২৬ আগষ্ট ২০০৭
ফটো ৩-৪ ( পূর্বমানকদিয়া, বাসাবো ও ভাগ্যকুল, বিক্রমপুর )
বন্যার সময় বানভাসি মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা বাসস্থান ও খাবার। এমনকি এ সময় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা- এর মতো নিম্নবিত্ত মানুষের ঘর ও আসবারপত্র নষ্ট হয়ে যায়। কেউ ঘরে মাচা বেঁধে বা ঘরের চালে আশ্রয় নেয়। যখন তারও উপায় থাকে না তখন আশ্রয় খুঁজতে হয় অন্যত্র, উঁচু জায়গায়। আবার যারা কোনো রকমে ঘরে থাকে, তাদের প্রায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় সাপের ভয়ে।
ভোরের কাগজ/ ২৭ আগষ্ট ২০০৭
ফটো ৫-৬ ( কামরাঙ্গীর চর ও ভাগ্যকুল )
জলমগ্নতার কারণে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের বেশি অসুবিধায় পড়তে হয়। বন্যার কারনে অনেক দিনমজুরই তাদের কাজে হারিয়ে পরিবারসহ উপবাসে দিন কাটায়। আর এই জলের সঙ্গে উপরি হিসেবে দেখা দেয় পানিবাহিত নানা রোগ। যার প্রথম শিকার এই সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
ভোরের কাগজ/ ২৮ আগষ্ট ২০০৭
ফটো ৭-৮ ( চিলমারীর চরাঞ্চল, চিলমারী )
চিলমারী আশপাশের চরের বেশিরভাগ মানুষই নিম্নবিত্ত। অন্যের জমিতে কৃষিকাজ ও মাছ ধরে তাদের জীবন চলে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে তারা প্রায়ই দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয় না। নদ-নদীর জীববৈচিত্র্য হারাতে বসার কারণে কখনো কখনো তাদের খালি হাতেই ফিরতে হয়।
ভোরের কাগজ/ ২৯ আগষ্ট ২০০৭
ফটো ৯-১০ (অষ্টমীরচর, চিলমারী। )
আলাল-দুলাল দুই ভাই। দুই দিন যাবৎ উপোস। বন্যার পানিতে তাদের কুঁড়েঘর সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। প্রায় ৫/৬ দিন ধরে তারা আশ্রয় নিয়েছে বাড়ির পাশে উঁচু জায়গায়। কিন্তু তাদের মতো একই অবস্থা এই গ্রামের অন্যদেরও। গ্রামের কেউ একবেলা, কেউবা রিলিফের চিড়া আর যারা রিলিফ পায়নি তারা না খেয়েই দিন কাটাচ্ছে।