কর্মসংস্থান বনাম দারিদ্র্য-১
প্রতিনিয়ত লম্বা হচ্ছে বেকারত্বের মিছিল
প্রতি বছর
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিনিয়ত লম্বা হচ্ছে বেকারত্বের মিছিল। মৌলিক চাহিদা পূরণের মতো আয়ের পথ না থাকায় বাড়ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ল্যে একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও বেকারত্বের অভিশাপে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি পাচ্ছে না দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মস্বল্পতা এবং সীমিত আবাদি জমির কারণেই বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির সাফল্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের সুযোগ সৃষ্টি করাই দারিদ্র্য নিরসনের একমাত্র পথ বলে তারা মনে করেন।
২০০২-০৩ সালে পরিচালিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০০৩ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৮১ লাখ। এর মধ্যে কর্মম মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৮৩ লাখ। কর্মম এই জনগোষ্ঠীর ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশই বেকার কিংবা অর্ধবেকার। এছাড়া অবসরে চলে যাওয়া এবং শিা গ্রহণে নিয়োজিত ১৫ বছরের বেশি বয়সী আরও ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। সব মিলিয়ে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্য কোনও ভূমিকা রাখতে পারছে না।
পরিসংখ্যান বু্যরো (বিবিএস)'র হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৫ বছরের বেশি বয়সের ৪ কোটি ৪৩ লাখ শ্রমজীবী মানুষ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত আছেন। এর মধ্যে ৩ কোটি ৪৫ লাখ পুরুষ এবং ৯৮ লাখ নারী। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আছেন ৩৮ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক। সরকারি জরিপের বাইরে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৭৪ লাখ শিশু শ্রমিক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত।
বিবিএস'র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালে দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ। সে সময় কর্মম নাগরিকের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২ লাখ। বু্যরোর মতে, কর্মম নাগরিকদের প্রায় ৪০ শতাংশই তখন বেকার ছিল। গত ৬ বছরে কর্মসংস্থানের েেত্র নতুন গতি সঞ্চার না হওয়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধির গতি অব্যাহত আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
২০০৫ সালে গৃহিত দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) দলিল অনুযায়ী, প্রতি বছর ১০ লাখ নতুন মুখ শ্রম বাজারে প্রবেশ করে_ যেখানে কর্মসংস্থান-জিডিপির স্থিতিস্থাপকতা মাত্র দশমিক ৩৪ (জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ হলে ০.৩৪ শতাংশ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়)। এতে আরও বলা হয়, ১৯৯০-৯১ সালে দেশে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বেকারত্ব বাড়লেও ১৯৯৯-২০০০ সালে তা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে।
বিবিএস'র পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ হারে বাড়ছে কর্মম মানুষের সংখ্যা। বছরে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার নতুন শ্রমশক্তি। এর বিপরীতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতিবছর মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নতুন করে কর্মে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাকি ৩ লাখ ২০ হাজার শ্রমশক্তি বেকার অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এছাড়া অবসর, ছাঁটাই এবং কলকারখানা বন্ধের কারণেও প্রতিবছর বাড়ছে কর্মহীন মানুষের মিছিল। এদের জন্য পুনঃকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় বিপুল সংখ্যক দ জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়ছে। সবমিলিয়ে প্রতিবছর ১৮ শতাংশ হারে বাড়ছে বেকারত্ব। গত দু' দশকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ২২টি পাটকল, ১৬টি চিনিকল, ১৪টি বস্ত্রকল, ২২টি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ছাড়াও বন ও পরিবেশ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইস্পাত-প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ হওয়ায় শ্রমজীবীদের দুর্দশা বেড়েছে।
পরিসংখ্যান বু্যরো'র সর্বশেষ জনশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে জনসংখা বৃদ্ধির হার কমলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধির হার বেড়েছে। নব্বইয়ের দশকে ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এ সময় জনসংখ্যায় কর্মম জনশক্তির অংশীদারিত্ব ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়ায়। সরকারি হিসাবে এ সময় বেকারত্ব বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। এর সঙ্গে প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব বৃদ্ধির (জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের চেয়ে কম মজুরিতে কাজ করে এমন জনগোষ্ঠী) হার যোগ করে অর্থনীতিবিদরা বিদ্যমান পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে মনে করেন। সর্বশেষ জরিপে দেশে প্রচ্ছন্ন বেকারের হার ৩১ দশমিক ৯ দেখানো হয়েছে।
সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুকে প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ সালে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। ২০০২ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। অবশ্য পরিসংখ্যান বু্যরো'র শ্রমশক্তি জরিপ ২০০২-০৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ, যা মোট শ্রমশক্তির ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ১ কোটি ৫১ লাখ লোকের সীমিত কাজের সুযোগ রয়েছে। ওই জরিপ অনুযায়ী, প্রকৃত বেকারের সংখ্যা ২০০২-০৩ সালে ১৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বিবিএস'র ওই জরিপের পদ্ধতি নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম জানান, যে সময় ওই জরিপ চালানো হয়েছে তার পূর্ববর্তী সপ্তায় সর্বনিম্ন দু' ঘণ্টা কাজে নিয়োজিত ছিল_ এমন ব্যক্তিকে বেকারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এত স্বল্প সময় কর্মে নিয়োজিত থাকাকে সূচক বিবেচনা করায় বেকারত্বের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসেনি। প্রকৃত বেকারের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে সরকারের কৌশলগত কোনও পরিকল্পনা নেই। অর্থনৈতিক েেত্র বারবার সরকারি নীতির পরিবর্তনের কারণেই দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাতের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে মোট যুবশক্তির ২৭ শতাংশ বর্তমানে বেকার জীবনযাপন করছে। ৪ কোটি ৮০ লাখ যুবকের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখই বেকার। এ গবেষণায় ১৫-৩০ বছর বয়সীদের যুবক ধরা হয়েছে। গত ১০ বছরে যুব জনসংখ্যা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। দেশে প্রতি বছর যে হারে শিতি ও অশিতি কর্মম মানুষ বাড়ছে সে হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে বেকারত্ব ভয়াবহ রূপ নেবে।
আইএলও'র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বেকারত্বের দিক থেকে শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। এ পরিসংখ্যানে দেশে বেকারত্বের হার ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ দেখানো হয়েছে।
অধ্যাপক এমএম আকাশের এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের দৃশ্যমান বেকারত্বের হার মাত্র ৩-৪ শতাংশ। কিন্তু এসএসসি বা এইচএসসি পাশ শিতিদের মধ্যে দৃশ্যমান বেকারত্বের হার প্রায় ১৫ শতাংশ। যারা দৃশ্যত বেকার নয় তারাও আসলে ছদ্মবেশি বেকার। তাদের অধিকাংশই সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টারও কম লাভজনক কর্মে নিয়োজিত থাকেন। সে হিসাবে বাংলাদেশে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩৫ শতাংশ বেসামরিক শ্রমশক্তি অর্ধবেকার। তারমতে, বিশাল বেকার বাহিনী থাকলে শ্রমবাজারে শ্রমশক্তি বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে মজুরি অনেক নিচে নেমে যেতে বাধ্য এবং কোনও নূ্যনতম মজুরি আইনই এর সুরার ব্যবস্থা করতে পারবে না।
গবেষকদের মতে, সীমিতসংখ্যক নতুন পদ এবং নিম্নমানের শিার কারণে শিতি বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। কোথাও একটি চাকরির সুযোগ হলে একটি পদের বিপরীতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছে ৩শ' থেকে ৪শ' চাকরিপ্রার্থী। ফলে ক্রমশ হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে যুব সমাজ। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে যুবকরা।
কর্মসংস্থান বনাম দারিদ্র্য-২
নির্ধারিত বেতনে কাজ করে সাড়ে ১২ শতাংশ শ্রমজীবী
সাড়ে ৮৭ শতাংশের নিয়মিত আয় অনিশ্চিত
দেশে কর্মে নিয়োজিত মানুষের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থাৎ মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ নির্দিষ্ট বেতনে কাজ করে। অর্থাৎ, বাকি সাড়ে ৮৭ শতাংশের নিয়মিত আয় অনিশ্চিত। সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ৪ কোটি ৭৩ লাখ শ্রমজীবী মানুষের নির্দিষ্ট কোনও আয় নেই। এদের মধ্যে ৪০ শতাংশ অথর্াৎ ২ কোটি ৪০ লাখ পারিবারিক শ্রমে জড়িত। যদিও বেকারত্বের পরিসংখ্যান করতে গিয়ে নূ্যনতম আয়হীন বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে কর্মজীবী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০০২-০৩ সালে পরিচালিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, মোট শ্রমশক্তির মাত্র ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ নিয়মিত নিয়োগকৃতকমর্ী। অথচ ১৯৯৯-২০০১ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপে এ ধরনের শ্রমজীবীর হার ছিল ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, মোট শ্রমশক্তির ২০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ দিনমজুর। শ্রমজীবীদের ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশই বিনামজুরিতে পারিবারিক শ্রমে নিয়োজিত আছেন। দেশের ৭ কোটি ৪২ লাখ কর্মম মানুষের মধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ উৎপাদনমূলক কাজে নিয়োজিত। বাকি প্রায় ৩ কোটি লোকের হাতে কোনও উৎপাদনমূলক কাজ নেই।
দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও কাজের সংকট প্রবল। বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশ সারা বছর কাজ পায় না। বছরের নির্দিষ্ট কয়েক মাস কাজ করার পর বাকি সময় বেকার হয়ে বসে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে কৃষি খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের হাতে বছরের অধিকাংশ সময়ই কোনও কাজ থাকে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় উন্নয়নে শহর ও গ্রামের মধ্যে সীমাহীন বৈষম্য বিরাজমান থাকায় গ্রামাঞ্চলে অধিকাংশ মানুষই সারা বছর কাজ পায় না। ফলে বেশির ভাগ সময় তাদেরকে বেকার হয়ে বসে থাকতে হয়। এটি দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। তাছাড়া কর্মম জনগোষ্ঠীর অদতা এবং নিম্ন আয়ের কারণেই দেশে বেকার ও অর্ধবেকারের সংখ্যা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পরিসংখ্যান বু্যরোর হিসাবে, দেশের মোট শ্রমশক্তির ৫১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বর্তমানে কৃষি খাতে নিয়োজিত। এছাড়া কর্মে নিয়োজিত শ্রমজীবীদের ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বাণিজ্য, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে, ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ ম্যানুফেকচারিং খাতে, ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরিবহন, সংরণ ও যোগাযোগ খাতে, ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ জনপ্রশাসন ও প্রতিরা খাতে, ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ পণ্য ও ব্যক্তিগত সেবা খাতে এবং ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ নির্মাণ খাতে নিয়োজিত আছেন।
কৃষি খাতে সারা বছর কাজ না থাকায় মৌসুম শেষে এ খাতে নিয়োজত শ্রমশক্তির একাংশ অন্য খাতে স্থানান্তরিত হলেও অধিকাংশই কর্মহীন হয়ে পড়েন। বাংলাদেশ তেমজুর সমিতির হিসাবে, কৃষিশ্রমে নিয়োজিত তেমজুররা বছরের ৩শ' ৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র ১শ' ৫০ দিন কাজ পায়। বছরের বাকি সময় তাদের গ্রামের অকৃষিখাতে অথবা শহরে কাজের সন্ধানে ছুটতে হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শ্রমজীবী জনগণের ৮০ ভাগ গ্রামাঞ্চলে কর্মরত। বছরের অধিকাংশ সময় গ্রামে কাজ না থাকায় বিভিন্ন সময়ে শহরে শ্রমশক্তির ভিড় বেড়ে যায়। এখানেও নিয়মিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত হয়ে জীবনধারণের পথ খুঁজে নেন তারা।
শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, শ্রমশক্তির অধিকাংশই সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টারও কম লাভজনক কর্মে নিয়োজিত থাকেন। সেই হিসাবে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেসামরিক শ্রমশক্তি অর্ধবেকার রয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে অধিকতর কর্মহীনতার দরুন এ অবস্থা আরো ভয়াবহ। অন্যদিকে কৃষিতে নিয়োজিত পুরুষ শ্রমজীবীরা প্রতিদিন গড়ে ৬৩ টাকা এবং নারীরা ৩৫ টাকা মজুরি পান। আর অকৃষি খাতে এ মজুরির হার যথাক্রমে ৮৫ ও ৫৯ টাকা। মোটা চালের দাম কমপ ে২২ টাকা কেজি হওয়ায় প্রকৃত মজুরির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে কৃষিখাতে পুরষদের ৩ কেজি, নারীদের দেড় কেজি এবং অকৃষি খাতে পুরষদের পৌণে ৪ কেজি ও নারীদের আড়াই কেজির সামান্য বেশি চালের সমান। চাল। এ মজুরিতে গড়ে ৪ জনের পরিবারের প েচলা অসম্ভব। এরপরও কৃষি মজুররা অকৃষিখাতে কাজ এবং অন্যান্যরা 'টুকটাক' আত্মকর্মসংস্থ্থানের ব্যবস্থা করে বেঁচে আছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সব অঞ্চল থেকে কর্মহীন মানুষ কাজের খোঁজে ভিড় করায় বেকারের সংখ্যা ঢাকা শহরেই সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে রাজশাহী ও সিলেট অঞ্চল। দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ 'ঋতুভিত্তিক'। গ্রামাঞ্চলে বিশেষ বিশেষ সময়ে একেবারেই কাজ থাকে না। সে সময় দেশের উত্তরাঞ্চল এবং হাওড় অঞ্চলসহ প্রত্যন্ত এলাকায় দরিদ্র গ্রামীণ মজুররা খেয়ে না খেয়ে জীবন নির্বাহ করেন। প্রতিবছরই আশ্বিন-কার্তিক মাসে ওই অঞ্চল জুড়ে দেখা দেয় চরম অভাব। কাজ ও খাদ্যের অভাবে ঘরে ঘরে চলে হাহাকার। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। ুধার তাড়নায় অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে দিন কাটাতে হয় অসংখ্য মানুষকে। না খেয়ে মারা যায় মানুষ।
গবেষণায় দেখা গেছে, যুগ যুগ ধরেই উত্তরাঞ্চলে চলছে এই অসহনীয় অবস্থা। মোটামুটিভাবে উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলার ৯৪টি উপজেলা এবং হাওড় অঞ্চলের ৭ জেলার ৪৮টি উপজেলার ৬৫ শতাংশেরও বেশি মানুষের ঘরে সারা বছর ধরেই অভাব বিরাজ করে। ঐতিহাসিক কারণেই এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। এ অঞ্চলের ২ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ নদী ভাঙনে ও অভাবের কারণে ভূমিহীন। ১ কোটিরও বেশি কর্মম যুবক বেকার তেমজুর ও ুদ্র কৃষক। প্রচুর পরিমাণে আবাদি জমি থাকলেও সামান্য কিছু মানুষের হাতে এগুলোর মালিকানা কেন্দ্রিভূত। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। রাষ্ট্রীয় অবহেলা এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের অমনোযোগের কারণে এ অঞ্চলে শিল্পায়ন হয়নি। কৃষিভিত্তিক যে দু'একটি কল-কারখানা গড়ে উঠেছে, সেগুলোও একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে সারা বছর এ জেলাগুলোতে কম-বেশি অভাব বিরাজ করে। আর জমিতে কাজ না থাকায় আশ্বিন-কার্তিক মাসে এ অবস্থা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। চলে নীরব দুর্ভি।
উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্যের মূল কারণ স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাব। রাজধানী থেকে দূরত্ব, নৌপথের স্বল্পতা, যমুনা নদীর কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভূখণ্ডের বিচ্ছিন্নতা এবং কষ্টকর যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে অতীতকাল থেকেই এ এলাকায় তেমন কোনও শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে নি। নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল, সিরাজগঞ্জের কওমী জুট মিল, কয়েকটি চিনিকল এবং বিড়ি কারখানা ছাড়া এ অঞ্চলে তেমন কোনও শিল্প গড়ে ওঠে নি। এর মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল ও রংপুর চিনিকল। অন্যদিকে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যের আগমন ও বড় কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গে তাঁতসহ পাঁচ লাধিক ব্যক্তিখাতের ুদ্র শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একমাত্র কৃষির ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে এখানকার অর্থনীতি। যমুনা সেতু নির্মিত হওয়ার পরও এ অবস্থার তেমন পরিবর্তন আসে নি। নদী ভাঙন, এনজিও'দের ঋণের জাল, কৃষিতে লোকসান ইত্যাদি কারণে জমিহারা তেমজুরে পরিণত হয়েছে এ অঞ্চলের অধিবাসীদের বড় অংশ। ফলে পরের জমিতে কাজ করা ছাড়া তেমন কোনও উপায় থাকে না তাদের।
অভাবের তাড়নায় হাটে-বাজারে বিক্রি করে দেয় পালের গরু-ছাগল, ঘরের ঘটি-বাটি, হাড়ি-পাতিল, এমনকি বসতঘর পর্যন্ত। মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে উত্তরাঞ্চলে যুগ যুগ ধরে চলছে জমজমাট দাদন ব্যবসা। একশ্রেণীর দাদন ব্যবসায়ী ও এনজিও উচ্চ সুদে টাকা ধার দিচ্ছে মানুষকে। বেঁচে থাকার অন্য উপায় না পেয়ে অনেকেই ঋণ নিচ্ছেন এদের কাছ থেকে। শতকরা ২০-২৫ ভাগ সুদে নানা শর্তে ঋণ নিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন অনেকে। প্রতিমাসে সুদের টাকা দিতে না পারায় ঋণ বাড়ছে চক্রবৃদ্ধি হারে। কাজের মৌসুমে এ ঋণ শোধ করতে হয় আগে। অনেক সময় এক কিস্তি ঋণ শোধ করতে অন্য মহাজন কিংবা এনজিওর কাছে হাত পাততে হয় তাদের। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের সাথে সাথে ঋণের চক্রে ঘুরপাক খায় উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষ।
কর্মসংস্থান বনাম দারিদ্র্য-৩
কর্মসংস্থানে ৯৫ শতাংশ অবদান বেসরকারী খাতের
সরকারের ভূমিকা বদলে বদলাচ্ছে কর্মসংস্থানের ধরণ
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতের অবদান ক্রমশঃ বাড়ছে। গত এক দশকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব শিল্প কারখানা বন্ধের বিপরীতে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানে সরকারের অবদান ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কর্মসংস্থানে রাষ্ট্রের প্রত্য ভূমিকা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে। একদিকে গ্রামে যেমন কৃষি জমির আয়তন ও ফসল বৈচিত্র্যের পরিবর্তন ঘটছে, অন্যদিকে শহরে শিল্প খাতে আসছে পরিবর্তন।
পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত ১০ বছরে নতুন করে সৃষ্ট কর্মসংস্থানে সরকারি খাতের অবদান মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময়ে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বেসরকারি খাতে। বাকি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে অলাভজনক খাতে। বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ শ্রমজীবীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। আর এক দশকে কর্মে নিয়োজিত যুবকদের ৩২ শতাংশই আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত।
জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি শিল্পখাত বা কলকারখানার স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার। এর সমপরিমাণ রয়েছেন অস্থায়ী শ্রমিক। দেশের মোট বড়, মাঝারি শিল্প-কলকারখানার ৯৮ ভাগই এখন বেসরকারি মালিকানায়। বেসরকারি শিল্পখাতের ৮০ ভাগই আবার অপ্রাতিষ্ঠানিক খতের। এখানে প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন। এরমধ্যে নির্মাণ শিল্পে সর্বোচ্চ শ্রমিক নিযুক্ত। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সারাদেশে রিকশা শ্রমিকের সংখ্যা ৬০ লাখ। আর যান্ত্রিক যানবাহন শ্রমিকের সংখ্যা ৩ লাখের কাছাকাছি। দেশের ৪০ হাজার রাইস মিলে কর্মরত রয়েছেন ৫ লাখ শ্রমিক_ যার ৬৫ শতাংশই নারী।
দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করার পর থেকে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান বু্যরো'র জরিপে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৭-৯৮ সালে দেশে মোট বড় ও মাঝারি শিল্পের সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৫শ' ৭৩টি। তিন বছরে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৭শ' ৫২টিতে। তিন বছরে ঢাকা বিভাগে ২ হাজার ৩শ'টি, খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৭শ'টি, রাজশাহী বিভাগে ৬শ'টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২শ'টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে নিটওয়্যার, বস্ত্র ও চামড়া খাত।
সরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও ক্রমেই অধোমুখী হচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)'র এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে জাতীয় বিনিয়োগে সরকারি খাতের অবদান ছিল জিডিপি'র ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়_ যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে ওই একবছরে বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অবদান জিডিপি'র ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশে উন্নীত হয়।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে সরকারি অফিস-আদালত ও আইন-শৃংখলা বাহিনীতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৩শ' ৪৮। সরকারি এমপিওভুক্ত শিা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২শ' ২৭ জন শিক। সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিকের সংখ্যা ৭৫ হাজার ৫শ' ৫৫ জন। সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার। এছাড়া সরকারের কাছ থেকে অবসর ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ১শ' ৭ জন। আর রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানায় কর্মরত আছেন মাত্র ৬৭ হাজার শ্রমিক। একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)'র তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশের ২ হাজার কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি ১শ' ৩৪টি পাটকলের মধ্যে এখন ৩৩টি বন্ধ। এ ছাড়া ১৬টি চিনিকল, ১৪টি বস্ত্রকল, ২২টি কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিসহ বন ও পরিবেশ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইস্পাত খাতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ৩শ'টি ঢালাই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ। গত ১৫ বছরে আড়াই লাখ তাঁতি বাধ্য হয়েছেন তাদের পেশা ছেড়ে দিতে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি অনুসরণ করতে গিয়ে আমরা খুব তাড়াতাড়ি আমাদের বাজার খুলে দিয়েছি। এ পরিস্থিতির জন্য দেশের অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত ছিল না। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে সরকারের মনোযোগ এখন বেসরকারিকরণে। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে। এর মধ্যে শুধু আদমজী পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়েছেন ৪০ হাজার শ্রমিক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সেবাখাতের প্রাধান্য বাড়লেও সে হারে শিল্পখাতের অবদান বাড়ছে না। ফলে কাঙ্তি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। কাঠামোগত পরিবর্তন শিল্পমুখী না হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসছে। পিছিয়ে পড়ছে শিল্প খাত। কৃষিখাতের অবদানও ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে মৌলিক শিল্প খাতের বিকাশ জরুরি।
কর্মসংস্থানের েেত্র জনশক্তি রফতানিও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। গত তিন দশকে ৩৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯শ' ৭২ জন বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধপথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গমন করেছেন। এরমধ্যে বর্তমানে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ' ৪২। এর বাইরে অবৈধভাবে আরও প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন বলে জনশক্তি রফতানির সঙ্গে জড়িতরা ধারণা করছেন। তবে তাদের অধিকাংশই বিদেশে গিয়ে নিম্নমানের কাজ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দীনের মতে, মানুষকে দ করতে না পারায় তারা বিদেশে গিয়ে নিম্নমানের কাজ করে। দেশে পরিকল্পিত প্রশিণের মাধ্যমে দ জনশক্তি রফতানি করতে পারলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থানে রাষ্ট্রের প্রত্য ভূমিকা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে। একদিকে গ্রামে যেমন কৃষি জমির আয়তন ও ফসল বৈচিত্র্যের পরিবর্তন ঘটছে, অন্যদিকে শহরে শিল্প খাতেও আসছে পরিবর্তন। অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশের মতে, গত এক দশক ধরে (১৯৯৫-২০০৫) বাংলাদেশের গ্রামে বেশ কিছু ল্যণীয় পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির বিশেষত জমিতে তৈরি ফসলের আপেকি গুরুত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। মৎস্য-গবাদীপশু-হাঁস-মুরগী এসব উৎপাদনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপ্রচলিত ফসল শাক-সবজি-ফল-ফুল চাষের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ট্রাডিশনাল ফসল উৎপাদনে ক্রমশ লাভের হার কমে যাওয়ায় ছোট-বড় নির্বিশেষে অনেক কৃষকই ধান-পাট চাষের কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। ১৯৯৬ সালের সর্বশেষ কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩-৮৪ সালের শুমারির তুলনায় বৃহৎ খামারের মোট সংখ্যা ও গড় আয়তন উভয়ই দ্রুত কমে যাচ্ছে। এমনকি মাঝারি খামারের মোট সংখ্যা ও গড় আয়তনও হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু ২ দশমিক ৫ একরের কম আয়তনের ুদ্র প্রান্তিক খামারের সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৯৬ সালে এ ধরনের খামার ছিল মোট কৃষি খামারের প্রায় ৮০ শতাংশ। এরমধ্যে খুবই ুদ্র বা প্রান্তিক খামারই (গড় আয়তন দশমিক ৪৫ একর) প্রায় ৫০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ হচ্ছে অ-প্রান্তিক ুদ্র খামার। সবচে' কম আয়তনের ৫০ শতাংশ প্রান্তিক খামারের অধীনে আছে মোট আবাদী জমির মাত্র ১৩ শতাংশ।
এমএম আকাশের মতে, খামারের আয়তন কমে যাওয়ায় শুধু জমির উপর নির্ভর করে গ্রামীণ ুদ্র কৃষকের জীবন-জীবিকা চলছে না। বর্তমানে এরা তাই গ্রামীণ মজুরের সমগোত্রীয় হয়ে পড়েছে। এদের গড় খামার আয়তন ক্রমশ হ্রাস পেয়ে ১৯৯৬ সালে যথাক্রমে ১ দশমিক ৫৪ একর এবং দশমিক ৪৫ একরে দাঁড়ায়। এ প্রবণতা গত কয়েক বছরে আরো গভীরতর হয়েছে বলে গবেষকরা মনে করেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামীণ মজুর নিজের অতি ুদ্র খামার বা অন্যের কাছ থেকে বর্গা নেওয়া সামান্য জমিতে বা স্বকর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না বলেই কোনও না কোনওভাবে তাদেরকে বাইরে অন্যের খামারে বা অকৃষিখাতে শ্রম বিক্রি করতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় খুব দ্রুতই বাধ্যতামূলকভাবে তারা পরিণত হচ্ছেন শ্রমশক্তি বিক্রেতায়। এদের মধ্যে যারা পারছেন তারা নিজের গ্রামের ভেতরেই প্রথমে অকৃষিখাতে পরিপুরক কাজ নিচ্ছেন। সেটা যখন সম্ভব হচ্ছে না তখন গ্রামের বাইরে অন্য কোনও জেলার গ্রাম অথবা নিকটবতর্ী মফস্বল শহরে কোনও কাজে শ্রমশক্তি বিক্রি করছেন। সেটাও সম্ভব না হলে ছুটছেন ঢাকা বা রাজধানীর শ্রমবাজারে। এভাবে বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ শ্রমশক্তি বিক্রি অথবা 'টুকটাক' কাজ করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদেরকেই বলা হচ্ছে 'গ্রামীণ দরিদ্র'।
দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি)'র দলিলে ২০০০ সালের হিসাব অনুযায়ী গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার ৪৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশের মতে, গ্রামীণ কৃষি মজুর, অকৃষি খাতে নিয়োজিত নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ুদ্র কৃষক মিলিয়ে গ্রামের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষই দরিদ্র। তিনি মনে করেন, গ্রামীণ মজুররা হচ্ছেন কর্মহীন, ভূমিহীন, সম্পত্তিহীন, পুঁজিহীন, শিাহীন, স্বাস্থ্যহীন, নিরাপত্তাহীন, অধিকারহীন গ্রামীণ মানুষ। এদের প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে_ কাজের সমস্যা, জমির সমস্যা, অর্থের বা পুঁজির সমস্যা, শিা ও স্বাস্থ্যের সমস্যা, অধিকার ও ইনসাফের সমস্যা।
আবহমানকাল থেকে এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পুরোটাই জুড়ে ছিল কৃষি। গত সাড়ে তিন দশকে শিল্প-বাণিজ্য-সেবাখাতের বিকাশ ঘটলেও দীর্ঘকাল এসব খাত সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে কৃষি হয়ে উঠেছে এদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। স্বাধীনতার পর প্রায় এক দশক এদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে শিল্প ও সেবা খাতের কম-বেশি বিকাশ ঘটায় ক্রমশ এ খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ বর্তমানে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, নগরায়ণ এবং শিল্প খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষির ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরশীলতা কমছে। শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও কমছে কৃষিনির্ভরতা।
শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে মোট গ্রামীণ পরিবারের মাত্র ২৭ শতাংশ অকৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বাকি ৭৩ শতাংশের একমাত্র অবলম্বন ছিল কৃষি। কিন্তু বর্তমানে কৃষির ওপর নির্ভরশীল পরিবারের হার ৬৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অকৃষি খাতে নিয়োজিত আছে বাকি ৩৪ শতাংশ পরিবার। এদিকে দেশের জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ গরিব দিনমজুর শ্রেণীর কর্মসংস্থানের প্রধান ত্রে কৃষি। শ্রমশক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর কৃষিমজুরের সংখ্যা প্রায় দুই শতাংশ হারে বাড়ছে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিল। ২০০২-০৩ অর্থবছরে পরিচালিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির ৫১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কৃষিকাজে জড়িত।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)'র এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে শিল্প ও সেবা খাতে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার মারাত্মক কমে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ধারা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য বিশাল উদ্বেগজনক বিষয়। কারণ এখনও অর্থনীতির ১৫টি খাতের মধ্যে জিডিপিতে এককভাবে কৃষির অবদান সবচে' বেশি। এরচে' গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে কর্মসংস্থানের বিশাল ত্রে। কৃষি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় মানে কর্মসংস্থানের ত্রে সংকুচিত হওয়া।
কর্মসংস্থান বনাম দারিদ্র্য-৪
দরিদ্রের জন্য সরকার : দলিলে এক কাজে আরেক
স্বাধীনতার পর থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের ল্যে গৃহিত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কৌশলপত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলেও এর সবগুলোই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়াই দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যর্থতার মূল কারণ। দারিদ্র্য বিমোচনের ল্যে একের পর এক অনুদান ও ত্রাণনির্ভর কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও বেকারত্ব ও অর্ধ-বেকারত্বের অভিশাপ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি দিচ্ছে না বাংলাদেশকে। আবার সরকারের প থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকায় কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে বড় কোনও সাফল্য অর্জন করা যাচ্ছে না বলে গবেষকরা মনে করেন।
১৯৭৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে প্রণীত পাঁচটি পঞ্চ-বার্ষিক এবং একটি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনকে অন্যতম প্রধান ল্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের ক্রয় মতা বাড়াতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষম প্রবৃদ্ধি অর্জন ছিল এসব পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। ২০০২ সালে পঞ্চম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিত্যাগ করে মূল পরিকল্পনা কাঠামো হিসেবে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল (পিআরএস) ধারণাকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে ২০০৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত 'সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন : দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনের জাতীয় কৌশল (আনলকিং দ্য পোটেনশিয়াল : ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর এঙ্েেলরেটেড পভার্টি রিডাকশন)' শীর্ষক চূড়ান্ত কৌশলপত্রে যে আটটি ত্রেকে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে তারমধ্যে প্রথমটিই হচ্ছে কর্মসংস্থান।
পিআরএসপি দলিলে দেশে কর্মসংস্থান-জিডিপির স্থিতিস্থাপকতা মাত্র ০.৩৪ উল্লেখ করে বলা হয়, কর্মসংস্থান ইসু্যকে সর্বোচ্চ কৌশলগত গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনের ল্যে কোনও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব নয়। পিআরএসপি'তে মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি, আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শ্রমঘন পণ্য বিশেষ করে কৃষি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য শর্তের উন্নয়নকে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রধান উপায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলিলে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের েেত্র এসব বিষয়কে অবহেলা করে কোনও নীতি প্রণয়নের অবকাশ নেই। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই দারিদ্র্য নিরসনে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। কর্মসংস্থানের েেত্র পিআরএসপিতে গ্রাম থেকে শহরে এবং এক খাত থেকে অন্য খাতে শ্রমশক্তির স্থানান্তরের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দরিদ্র জনেেগাষ্ঠী যে কাঠামোর মধ্যে জীবিকা নির্বাহ করে সে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া পিআরএসপির সহায়ক কৌশল হিসেবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আয় ও ভোগ বিপর্যয় থেকে রার ল্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
পিআরএসপি'তে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু দারিদ্র্য কমাতে কীভাবে ও কত হারে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে_ সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বা পরিকল্পনা করা হয়নি।
২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে পিআরএসপি বাস্তবায়ন শুরু হলেও এ পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ল্যে সরকারের নীতি, কৌশল ও কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য কোনও পদপে গৃহিত হয়নি। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি খাতে বিনিয়োগ আদৌ উৎসাহব্যঞ্জক নয়। প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি বড় অংকের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এর বাস্তবায়ন নেই। বেশির ভাগ বরাদ্দ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হয়_ যা উৎপাদনে ঘাটতি সৃষ্টি করে ব্যাপকভাবে বেকারত্বের জন্ম দিচ্ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি বছর ২৫ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে বর্তমান বেকারত্ব ঘোচাতে ৭ বছর সময় লাগবে। আর এ পরিমাণ বেকারকে কর্মে নিয়োজিত করতে হলে প্রতি বছর কমপ েসাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু এ পরিমাণ বিনিয়োগ তো হচ্ছেই না উল্টো অনেকেেত্র আগে বিনিয়োগকৃত পুঁজি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
পিআরএসপি'র মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো (এমটিএমএফ) অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির ল্যে প্রতি বছর মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি)'র ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বিনিয়োগের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গত ৩ বছরে বিনিয়োগের এ ল্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে জিডিপি'র ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। এরমধ্যে ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেসরকারি খাতে এবং ৫ দশমিক ৯ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে।
পিআরএসপি ও বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা বলা হলেও টাকার অভাবে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রতিবছর কর্মসংস্থানের জন্য কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত তিন বছর ধরে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের আলোকে বাজেট প্রণয়ণ করা হচ্ছে। বাজেটে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ঋণ বরাদ্দের কথা বলা হলেও সেভাবে বৃহৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেকার সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর কোনও দিকনির্দেশনা কোনও বাজেটই দিতে পারেনি। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্র্য নিরসনের কাঠামোগত কোনও বিন্যাসও বাজেটে পরিলতি হয়নি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি_ কোথায়, কার মাধ্যমে, কোন প্রক্রিয়ায় হবে তার কোনও দিকনির্দেশনাও বাজেটে নেই।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ল্যে কয়েকটি ুদ্র কর্মসূচি পরিচালনা ও ুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তার জন্য ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৯শ' ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর আগের বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪শ' ৩৪ কোটি টাকা। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে শুধু ুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহ প্রদানের ল্যে ৫শ' কোটি টাকার একটি ঋণ তহবিল গঠন করা হয়। এভাবে মাত্র এক বছরের মধ্যে কর্মসূচি পরিবর্তনের কারণে কর্মসংস্থানের স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা চালু করা যাচ্ছে না। আবার এসব কর্মসূচিতে প্রকৃত অর্থ ব্যয় এবং এর ফলাফল সম্পর্কেও পরবর্তী বাজেটে কোনও ধারণা দেওয়া হয় না। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সাময়িক বেকারত্ব মোচন তহবিল নামে একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। প্রথম বছর এ তহবিলের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এ তহবিলের বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা বাড়ানো হলেও আগের অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং এতে কী হারে বেকারত্ব মোচন হয়েছে_ সে ধরনের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পিআরএসপি'তে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে পদপে গ্রহণ করা হলেও গত কয়েক বছরে এর উল্টো নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানা বন্ধের পাশাপাশি পুনর্বাসন ছাড়া রিকশা, বস্তি ও হকার উচ্ছেদের ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে। ভিআইপি রোডে রিকশা চলাচল বন্ধ এবং পূর্বঘোষণা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত দোকান-পাট উচ্ছেদের ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর আয় হ্রাস করা হয়েছে।
গত ১১ বছর ধরে ঢাকায় রিকশাচালনার সঙ্গে যুক্ত রংপুরের নুরু মিয়া আজকের কাগজকে জানান, আগে প্রতি মাসে নিজের খরচ বাদে তিনি বাড়িতে ২ হাজার টাকার মতো পাঠাতে পারতেন। ভিআইপি রোডে রিকশা চালানো বন্ধের পর আয় কমে যাওয়ায় এখন ১ হাজার টাকার বেশি পাঠানো যায় না।
ভিআইপি রোডে রিকশা বন্ধের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে রিকশাচালকদের দৈনিক আয় ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে মানব উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র'র এক গবেষণায় দেখা গেছে। এ গবেষণায় দেখা যায়, আগে রাজধানীর একজন রিকশাচালক প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮শ' ৩৪ টাকা আয় করতেন। সে আয় কমে এখন ২ হাজার ৬শ' টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পুনর্বাসন ছাড়া রিকশা উচ্ছেদের কারণে দেড় লাখ লাখ এবং ২৪টি বস্তি উচ্ছেদের কারণে সরকারি হিসেবে ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার সদস্য তিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসেবে বস্তি উচ্ছেদের কারণে রাজধানীর ৩৫ লাখসহ সারা দেশে ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ৪৫ জন তিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা না করে হাট-বাজার উচ্ছেদের ফলে সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ পরিবার কম-বেশি তিগ্রস্ত হয়েছে।
ঢাকার রাস্তায় হকার হিসেবে ুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ভোলার মো. হোসেন আলী জানান, মেঘনা নদীতে তিন তিন বার বাড়ি-ঘর ভেঙে যওয়ার কারণে দূরসম্পর্কের এক মামার জমিতে বসবাস করেন তারা। ১৯৮৪ সাল থেকে তিনি ঢাকার রাস্তায় একটি দোকানে কাজ করেন। দীর্ঘ এই সময়ে বহুবার রাস্তা-ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তার হয়েছে। প্রতিবারই পুলিশকে টাকা দিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করতে পেরেছেন_ কিন্তু এবারই সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি অন্য কাজও শিখতে পারেননি, যার উপর নির্ভর করে সংসার চালাতে পারবেন। হোসেন আলী এখন এখন অর্ধ-বেকার। আগে বেতন ছিল দৈনিক ১শ' টাকা হিসাবে মাসে ৩ হাজার টাকা। এখন বেতন নেই, পেটে-ভাতে হোসেন আলীর দিন যাপিত হচ্ছে। গত প্রায় তিন মাস ধরে হোসেন বাড়িতে কোনো টাকা পাঠাতে পারছেন না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হোসেন বলেন, আগে বাড়িতে মাসে ১৫শ' টাকা পাঠাতাম। ওই টাকার ওপরই ৬ জনের সংসার চলতো। এখনও পুলিশ-র্যাবের চোখকে ফাঁকি দিয়ে খুব কম সময় ফুটপাতে দোকান বসাতে পারি। নিয়মিত কোনও আয় না থাকায় কয়েক হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। গ্রামে গিয়েও কিছু করে খাওয়ার পথ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে চুরি, ছিনতাই বা ভিা ছাড়া কিছু করার থাকবে না।
গবেষক এমরান হাচান মামুনের এক গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানে গোটা বাংলাদেশে প্রায় ৪০ লাখ হকার সরাসরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এই পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং এদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল আরো কয়েক লাখ মানুষের জীবিকার সঙ্কট তৈরি হয়েছে প্রবলভাবে। গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকা শহরে উচ্ছেদ হওয়া লাখ লাখ হকারের অধিকাংশই বেকার হয়ে পড়েছে। এদের একাংশ বিকল্প পেশা হিসেবে রিকশা চালনাকে বেছে নিয়েছে। অনেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর ফুটপাতে পুনরায় দোকান বসাতে ব্যর্থ হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রামে কাজ না থাকায় পেটের দায়ে তারা আবার শহরে ফেরত আসছেন। সরকার 'হলিডে মার্কেট' চালু করলেও তা হকার ও তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানের জন্য যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হয়নি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, একদিকে দারিদ্র্য বিমোচনের সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে পিআরএসপি বাস্তবায়ন অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ করা সরকারের স্ববিরোধী কর্মকাণ্ড। এর ফলে দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যাহত হবে সরকারের পুরো দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি। বস্তি, হকার ও রিকশা উচ্ছেদের আগে বিকল্প কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকতো, অন্যদিকে সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযানে শুধু দারিদ্র্য বিমোচন নীতি বাস্তবায়নই ব্যাহত হচ্ছে না সরকারের একাধিক কর্মসূচি ও প্রকল্পও প্রত্যভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছে। বস্তি উচ্ছেদের ফলে শহরাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের ল্যে গৃহিত সরকারের বেশ কিছু প্রকল্প চরমভাব ব্যাহত হয়েছে। শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় এলজিইডি ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত দেশের ২২টি পৌরসভার ১শ' ১৯টি বস্তির ১৪ হাজার ৬১টি পরিবারকে ৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেছে। সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত যশোর, টঙ্গি, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ পৌরসভায় ১৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। দেশের ৪টি সিটি করপোরেশন ও আরও ২২টি পৌরসভায় একই ধরনের আবর্তক ঋণ কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া সমাজসেবা অধিদফতরের আরবান কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (ইউসিডি) প্রকল্পের আওতায় শহরাঞ্চলে ুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্পে বিতরণকৃত ঋণ ফেরত আসার হার ছিল ৯১ শতাংশ। এসব কর্মসূচিসহ সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ২০০৫-০৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৮ হাজার ১শ' ২৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা ুদ্র ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ওই সময় পর্যন্ত ফেরত এসেছে ৬ হাজার ৭শ' ৮১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
ুদ্র ঋণসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিলেও অপরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযান এসব কর্মসূচির সাফল্যকে ব্যাহত করছে। বস্তি উচ্ছেদের কারণে সরকারি প্রকল্পের ঋণগ্রহিতা পরিবারগুলোর অধিকাংশই গৃহহারা হয়ে পড়েছে। নতুন বাসস্থানের ঠিকানা না থাকায় এসব পরিবারের মধ্যে বিতরণকৃত ঋণ ফেরত পাওয়া কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। একইভাবে এসব প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অধিকাংশই রাস্তার পাশে ছোট দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বস্তির পাশাপাশি হকার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কারণে তাদের সেই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দের উন্নয়ন ল্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৫ সালের মধ্যে চরম-দারিদ্র্য নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছে। এ ল্যে বিভিন্ন খয়রাতি কর্মসূচির পাশাপাশি কর্মসংস্থানমূলক নানা প্রকল্পও গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে_ কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন, সাময়িক বেকারত্ব মোচন তহবিল, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ বিতরণ, ছাগল উন্নয়ন, পশুসম্পদ খাতে পুঁজি গঠন, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ইত্যাদি। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবয়বের তুলনায় এসব কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ একেবারেই নগণ্য বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। আবার শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ব্যাপক দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতাসহ নানা কারণে এসব প্রকল্প পুরোপুরি সফল হতে পারছে না।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি খাতে বিনিয়োগ আদৌ উৎসাহব্যঞ্জক নয়। প্রতি বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি বড় অংকের বরাদ্দ দেয়া হলেও এর বাস্তবায়ন কীভাবে হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। বেশির ভাগ বরাদ্দ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হয়_ যা উৎপাদনে ঘাটতি সৃষ্টি করে ব্যাপকভাবে বেকারত্বের জন্ম দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দীন বলেন, বেকারত্ব দেশের প্রধান সমস্যা হলেও বেকাররাই হতে পারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় হাতিয়ার। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ বৃদ্ধি। কারণ যতণ দেশে বেকার জনগোষ্ঠী থাকবে ততণ বিনিয়োগ করলেই উৎপাদন বাড়বে। বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান উপায়।
এদিকে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের ল্যে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)গুলো দীর্ঘদিন ধরেই ুদ্র ঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ক্রেডিট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (সিডিএফ)'র হিসাবে দেশে বর্তমানে ৭শ' ২১টি এনজিও ুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অর্থনৈতিক সমীা ২০০৬ অনুযায়ী ২০০৫-০৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৯টি বৃহৎ এনজিও ১ কোটি ৬২ লাখ গ্রহিতার মধ্যে ৪১ হাজার ৩শ' ৫৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। দেশে ুদ্র ঋণ কর্মসূচিতে এনজিওদের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৯০ শতাংশই এ ৯টি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ ুদ্র ব্যবসা, ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ শস্য উৎপাদন, ১৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পশু-পাখি পালন এবং ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ মৎস্য খাতে বিনিয়োগ হয়েছে বলে সিডিএফ'র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এনজিও ঋণ বাস্তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে কতটুকু ভূমিকা রাখে_ সে বিষয়ে অনেক অর্থনীতিবিদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ুদ্র ঋণ কর্মসূচি পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর মতে, তাদের কর্মকাণ্ড দরিদ্র জনগোষ্টীর আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করছে। এসআর খন্দকারের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবছর ঋণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ৩ থেকে ৫ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্য অবস্থা থেকিয়ে বেরিয়ে আসছে। পল্লী কর্মসংহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)'র এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঋণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীরা আত্মকর্মসংস্থান, কৃষি জমি, পরিবহন, অকৃষি খাত থেকে আয়, আয়বর্ধক সম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তির েেত্র অন্যদের চে' এগিয়ে থাকে। নারীর মতায়নের েেত্রও ুদ্র ঋণ বড় ভূমিকা রাখে।
তবে কয়েক বছর আগে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি)'র এক জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এনজিওদের প্রদত্ত ঋণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কোনও উপকারে আসছে না। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ েেত্র ঋণের পরিমাণ কম হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটে না। এই অর্থ কোনও উৎপাদনমুখী কাজে ব্যয় করা যায় না।
গবেষণায় দেখা গেছে, এনজিওগুলো অতি দরিদ্র প্রবণ এলাকায় তাদের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে আগ্রহী হয় না। অতিদরিদ্রদের ঋণ প্রদানের েেত্র তাদের অনাগ্রহ রয়েছে। ঋণ আদায়ের ল্যমাত্রা পূরণে মাঠকর্মীদের ওপর কতর্ৃপরে চাপ, অতিদরিদ্রদের নির্দিষ্ট ঠিকানা না থাকা, ঋণ আদায়ের ঝুঁকি, দরিদ্রপ্রবণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, নূ্যনতম আয়ের উৎস না থাকা, ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলোর তহবিলের সীমাবদ্ধতা, পরিকল্পনার অভাব ইত্যাদিকে গবেষকরা এনজিও ঋণের এ ধরনের প্রবণতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে সমপ্রতি গ্রামীন ব্যাংক ও ব্র্যাক ুদ্র পরিসরে হলেও অতিদরিদ্রদের জন্য ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। ইনকাম জেনারেশন ফর ভারনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (আইজভিজিডিপি)'র মাধ্যমে ব্র্যাক শহরের হতদরিদ্র পরিবারে ঋণ দান শুরু করেছে। এ কর্মসূচিতে গ্রাহকদের প্রশিণ ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বস্তিবাসী জন্যও আলাদা ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে ব্র্যাক। সংগ্রামী সদস্য কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ ব্যাংক ভিুকদের মধ্যে জামানতবিহীন ও সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ শুরু করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচনের বড় কোনও কার্যকর উপায় নয়_ এটি একটি সহায়ক উপায় মাত্র। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ুদ্র ঋণ প্রাপ্তির অবাধ সুযোগ সৃষ্টি প্রয়োজন হলেও এটি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য যথেষ্ট নয়। অর্থনীতিবিদ আতিউর রহমান বলেন, ুদ্রঋণ দারিদ্র্য দূর করে না। তবে এ ঋণ দারিদ্র্য বিমোচনের ভিত্তি তৈরি করে। এর পাশাপাশি দরিদ্রদের জন্য বাজেটে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দুয়ে মিলে বড় ঘটনা ঘটাতে পারে।
কর্মসংস্থান বনাম দারিদ্র্য-৫
সমাধান স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা
দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে হলে সবার জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সারা দেশে গড়ে তুলতে হবে পর্যাপ্ত শিল্প কারখানা। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া কুটির শিল্প স্থাপনের জন্য হাতে-কলমে প্রশিণ, সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতের ব্যবস্থা করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের মতে, দেশের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে সবচে' গুরুত্ব দিতে হবে মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থান ও স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর। সামান্য ময়ের চন্য কিছু কাজের বিনিময়ে সামান্য অর্থপ্রাপ্তিস্বর্বস্ব কর্মসংস্থান নয়_ আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপরই সবচে' বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমানের এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, উপার্জনম পুরুষ নেই এমন পরিবারই সাধারণত বেশি দারিদ্র্যের শিকার হয়। আবার কৃষি মজুর প্রধান পরিবারে দারিদ্র্য বাড়ছে। চাকরিজীবী সদস্য রয়েছে এমন পরিবারে দারিদ্র্যের মাত্রা কম। অকৃষি খাতে অংশগ্রহণ করা গেলে দারিদ্র্যের মাত্রা কমানো সম্ভব হয়। কিন্তু দতা ও পুঁজির অভাবে যারা গ্রামীণ অকৃষি খাতে প্রবেশ করতে পারছে না তারাই দরিদ্র থেকে যাচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ মজুরদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে কাজের সমস্যা। কৃষিতে বর্তমানে গ্রামীণ মজুরদের বছরে ১৫০ দিনের বেশি কাজ থাকে না। তাই বছরের বাকি অর্ধেক সময়ে গ্রামীণ মজুরদের গ্রামের অকৃষিখাতে অথবা অন্যত্র শহরে কাজের সন্ধানে ছুটতে হয়। গ্রামাঞ্চলে বিশেষ বিশেষ সময়ে একদমই কাজ থাকে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে (যেমন মঙ্গা এলাকায়) তখন দরিদ্র গ্রামীণ মজুররা খেয়ে না খেয়ে জীবন নির্বাহ করেন। উত্তরবঙ্গের মঙ্গাপীড়িত এলাকাসহ এ ধরনের বিশেষ দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকায় কর্মসংস্থানের জন্য বাজেটে বিশেষ পৃথক বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।
দ্রুত যান্ত্রিকীকরণের ফলে আগামী দিনে গ্রামাঞ্চলে কৃষিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা যায়। কৃষি শুমারির হিসাব থেকেও দেখা যাচ্ছে, গত দেড় দশকে কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। কম সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে অথবা চুক্তি বর্গা দিয়ে অথবা শ্রমিকদল/পরিবারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কৃষির কাজগুলো হচ্ছে। এেেত্র কর্মসংস্থানের জন্য গ্রামাঞ্চলে অকৃষিখাতের দিকেই আমাদের প্রধানত দৃষ্টি দিতে হবে। এযাবৎ এনজিওগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা অনু-ঋণের মাধ্যমে অকৃষিখাতে দরিদ্রদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের প্রচেষ্টা নিয়েছে। সরকার গ্রামাঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ করে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়ে আসছে। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দের উন্নয়ন ল্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৫ সালের মধ্যে চরম-দারিদ্র্য নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছে। এ ল্যে বিভিন্ন খয়রাতি কর্মসূচির পাশাপাশি কর্মসংস্থানমূলক নানা প্রকল্পও গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে_ কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন, সাময়িক বেকারত্ব মোচন তহবিল, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ বিতরণ, ছাগল উন্নয়ন, পশুসম্পদ খাতে পুঁজি গঠন, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ইত্যাদি। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবয়বের তুলনায় এসব কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ একেবারেই নগণ্য বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। আবার শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ব্যাপক দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতাসহ নানা কারণে এসব প্রকল্প পুরোপুরি সফল হতে পারছে না।
অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশের মতে, এসব ট্রাডিশনাল প্রচেষ্টা_ চরম দরিদ্রকে স্পর্শ করে না। ুদ্রঋণ ভিত্তিক ুদে উৎপাদন ও স্বকর্মসংস্থান দরিদ্রকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সম হয় না। বরং তাকে কোনওমতে নাক ভাসিয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য করে। গ্রামীণ দরিদ্রদের অনু-ঋণের কার্যকর সুদের হার অনেক বেশি। গড়ে তা বর্তমানে ৩৩ শতাংশ। অথচ শহরের ধনীরা ৫-১২ শতাংশ হারে ঋণ পান। দরিদ্রদের হাজার হাজার কোটি টাকা সঞ্চয় রয়েছে। এই টাকার উপর তাদের মালিকানা নেই। এগুলোর ব্যবহারের উপর তাদের কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনও আইনগত সুরা ব্যবস্থাও এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত। 'কাবিখা', 'শিবিখা', উপজেলাগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণের বরাদ্দ, বয়স্ক ভাতা, দুঃস্থ মাতার জন্য গম ইত্যাদি নিরাপত্তা জালের বিভিন্ন কর্মসূচি বাবদ বাজেট বরাদ্দ এতই অপ্রতুল ও দুনর্ীতিবহুল যে এ থেকে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান বা উপকার কোনওটাই সম্ভব নয়। এেেত্র বরাদ্দ প্রকৃত কাজে লাগাতে হলে বাজেটে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যত প্রকল্প গৃহীত হবে তার উপজেলাওয়ারী তালিকা তৈরি করতে হবে। এসব ব্যয় বরাদ্দের ফলে ওইসব উপজেলায় সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের পরিমাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুর ও শেষের তারিখ, অর্থমঞ্জুরির পরিমাণ, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নাম ইত্যাদি বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণ ও মজুর সমিতিগুলোকে আগে থেকেই জানিয়ে দিতে হবে। সকল খাসজমি, খাসজলা, খাসপুকুর, বনাঞ্চল, দরিদ্রদের নিজস্ব সঞ্চিত পুঁজি, ইত্যাদির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দরিদ্রদের নিজস্ব সমবায়কে অর্পণ করতে হবে। যারা উৎপাদক চাষী রয়েছেন তাদের কাছে যাতে ভতর্ুকি সঠিকভাবে পেঁৗছায় এজন্য ভাউচার সিস্টেম চালু করতে হবে। অকৃষি খাতে উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা ও কারিগরি প্রশিণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে গ্রামাঞ্চল বা মফস্বল শহরে শ্রমঘন রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এসব পদপে গ্রহণ করা হলে দেশের বর্তমান অসম ও কর্মহীন প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে সুষম কর্মমুখী প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের পথ প্রশস্ত হবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।
এদিকে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের ল্যে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)গুলো দীর্ঘদিন ধরেই ুদ্র ঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ক্রেডিট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (সিডিএফ)'র হিসাবে দেশে বর্তমানে ৭শ' ২১টি এনজিও ুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অর্থনৈতিক সমীা ২০০৬ অনুযায়ী ২০০ |