Shahjahan Siraj
Shahjahan Siraj
Photo: C.Poffet
contact us
resources
editorial
country news
 
 
Web this site
..

মৌয়ালীর জীবন ও জীবিকা আজও বিষাদের তিক্ততায় ভরা
- রকিব উদ্দিন পান্নু / সংবাদ, খুলনা


মধু সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ঔষুধ এবং খাদ্যে, নানা কাজেই যার প্রয়োজন। সেই মধু আরও মূল্যবান হয় যদি তা হয় সুন্দরবনের খাটি মধু। তবে এই খাটি মধু আহরণে যারা জড়িত থাকেন। তাদের জীবন ও জীবিকায় নেই মধুময় স্বাদ। অধিকাংশ মৌয়ালীর জীবন ও জীবিকা আজও বিষাদের তিক্ততায় ভরা। সুন্দরবনকে ঘিরে প্রায় ১৫ হাজার মধুসংগ্রহকারীর ভাগ্য আজও প্রকৃতি নির্ভর। আর মধু আহরণের পদ্ধতিতে লাগেনি আধুনিকতার ছোয়া, রয়ে গেছে সেকেলে ধরণের। দীর্ঘদিনেও মধু আহরণ বা মৌয়ালীর জীবনযাত্রার কোন ব্যবস্থারই কোন পরিবর্তন নেই।

দারিদ্র বিমোচনে সহস্্রাব্দের ল্য অর্জণ এবং বিগত সরকারের প্রণীতি দারিদ্র বিমোচন কৌশল পত্রে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহে দরিদ্রের সুযোগ বৃদ্ধি, বনজ সম্পদে দরিদ্রদের অবিগম্যতার সুযোগ বাড়াতে এবং দরিদ্রদের জন্য টেকসই জীবিকার উন্নয়নে নানা প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রকল্পের কথা বলা হলেও সুন্দরবনের মৌয়ালরা এসব কিছুই জানে না। পিআরএসপি কি? তা জানেনা বন বিভাগের উর্ধতন কর্তাদের অনেকেই।



ঘন সবুজ সুন্দরবন প্রান্তসীমায় বসবাসকারি লোকালয়ের প্রায় ১৫ হাজার মৌয়ালীর জীবিকার উৎস সুন্দরবন। অন্য কোন পেশায় নিজেকে জড়ানোর সুযোগ না পেয়ে সাধারণত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির শক্ত সামর্থ্যবানরাই বেছে নেন মৌয়ালের পেশা। সুন্দরবন মৌয়ালদের জীবিকার উৎস হলেও আবার জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নেয় যেকোন সময়ে। প্রাণ বাঁচায় সুন্দরবন আবার প্রান হরণও করে সুন্দরবন। জলে শুধু কুমির থাকলেও ডাঙ্গায় বাঘ বাদেও আছে আরও অনেক কিছ। আচরণের কারণে বনদসু্য আর বনররি বিভাজনটা বোঝেনা মৌয়ালরা। শুধু বোঝে উভয়কেই অনিচ্ছা সত্তেও উপার্জণের টাকা দিতে হয়। বনকর্তাদের দিনে আর বনদসু্যতে রাতে। পার্থক্য শুধু সময়ের। এক পকে টাকা না দিলে বন থেকে বের করে দেয়া অথবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসতে হয়। অপর পকে টাকা না দিলে নির্যাতনের শিকার বা অপহরণের শিকার হতে হয়। মৌয়ালরা রাতে বাঘের চেয়েও এরা বেশী ভয় করে বনদসু্যদের। এদের হাত থেকে রেহাই পেতে বড়খাল থেকে ডিঙ্গি নিয়ে চলে যায় ছোট খালে। ডিঙ্গিতে ছৈ তুলে এর চারপাশ ঘিরে দেয়। কোন আলো জালান না। এর ভেতরে গাদাগাদি করে কোন রকমে রাতটি কাটিয়ে দিয়ে পরদিন আবার মধুর খোজে জীবনকে তুচ্ছ করা শুরু হয়।

সাধারণত মৌয়ালরা ২১ জনের একটি দল তৈরী করে তিনটি ডিঙ্গি নৌকা এবং একটি বড়নৌকা নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করেন। আবার ৮ জনের বা দুইটি ডিঙ্গি নিয়ে ১৪ জনের বহরও হয়। সাধারণত ২১ জনের একটি বহরে খরচ হয় প্রায় দেড়লাখ টাকা। যার পুরো টাকা দেয় দাদন ব্যবসায়ী এবং মহাজনেরা। মৌয়ালদের মহাজনের খপ্পর থেকে রেহাই দিতে কয়েক বছর আগে জীব বৈচিত্র সংরণ প্রকল্পের আওতায় মৌয়ালদের ঋণ প্রদান করা হলেও বর্তমানে সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মৌয়ালদের উপার্জিত অর্থের প্রায় পুরোটাই তুলে দিতে হয় মহাজন দাদনদারদের হাতে। বাজারে একমন মধু ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও মহাজনদের কাছে তা বিক্রি করতে হয় ১ থেকে দের হাজার টাকা কমে। আবার লভ্যাংশ্যের একভাগও তাকে দিতে হয়।

সাতীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউণিয়নের বাসিন্দা আব্দুল খালেক দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করেন। ডাকাতের হাতে পড়েছেন কয়েকবার। একবার বনদসু্যদের চাহিদামত ১০ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাকে তুলে নেয়া হয়েছিল। আড়াইমাস তাকে ডাকাতদের রান্নাবান্নাসহ নৌকায় মাঝিগিরি করতে হয়েছে। বেশিরভাগ েেত্র রাতে, কখনো নির্জনস্থানে পেলে দিনেও বনদসু্যরা হামলে পড়ে মৌয়ালদের ডিঙ্গিতে। লুটপাট করে নিয়ে যায় সবকিছু। লুটপাটের মত কিছুই না থাকলে তখন এর মাঝিকে অপহরণ করে। নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পরিমাণ টাকা দিলে তবে মুক্তি মেলে।

মৌয়ালদের তিনটি ডিঙ্গি'র সাথে থাকা বড় নৌকাটিকে স্থানীয় ভাষায় ভড় বলা হয়। ভরটি জঙ্গলের মুখে কাছাকাছি বনঅফিসের কাছে তাদের ভর বাধা থাকে। সেখানে দুইমাসের বাজার মজুদ থাকে। আর ভরের পাহারায় থাকেন একজন মানুষ। ভর রেখে তিনটি ডিঙ্গিতে মৌয়ালরা তুলে নেন এক সপ্তাহের খাবারে মজুদ। বেড়িয়ে যান মৌচাকের খোজে। জঙ্গলের ভেতরে খাল ধরে এগুতে থাকেন। সুবিধাজনক স্থানে তারা ডিঙ্গি থেকে নেমে পড়েন। ডিঙ্গিতে থাকেন মাঝি, তিনি ডিঙ্গি সামলান, রান্না সারেন, এর ভেতরেই বিশেষ সঙ্কেতের সাহায্যে ডাঙ্গায় থাকা সঙ্গিদের অনুসরণ করেন খাল ধরে। ডাঙ্গার জঙ্গলে খালের তীর ঘেষেই ওপরের দিকে তাকিয়ে মৌচাকের খোজে হাটতে থাকেন কয়েকজন। বাকীরা শব্দ শোনা যায় এমন দুরত্ব রেখে জঙ্গলের ভেতরে মৌচাকের খোজে হাটতে থাকেন। মাঝেমধ্যে কুউউ শব্দ করে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রা করেন। কোথায় মধুরচাক দেখা গেলে সমস্বরে আল্লালা বলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে উল্লাস ধ্বনি তোলেন তারা। এসময়ে ওই উল্লাস ধ্বনি ও হাকডাক শুনে বাকি সবাই সেখানে একত্রিত হয়। শুরু হয় ধোয়া তৈরী করে আগুন জালিয়ে দা, ধামা নিয়ে গাছে উঠে মধু সংগ্রহের পালা। সপ্তাহজুড়ে মধু সংগ্রহ শেষে ফেরেন ভরে ফেরেন। সেখানে সংগ্রহিত মধু রেখে এবং আবার এক সপ্তাহের খাবারের মজুদ নিয়ে আবার জঙ্গলে ঢোকেন মধুর খোজে।

মৌয়ালরা জানান, ডিঙ্গি নৌকা থেকে নেমে মৌচাকের সন্ধানে বের হওয়ার পরে এবং মধু নিয়ে ফেরার পথেই মুলত তারা বাঘের শিকারে পরিনত হওয়ার আতঙ্কে থাকেন। বাঘ সবসময়ে অসতর্ক মুহুর্তে পেছন থেকে আক্রমন করে। যে কোন একজন মৌয়ালকে টার্গেট করে বাঘ দীর্ঘন তাকে অনুসরণ করে। মানুষের মাথা ও ঘারকে টার্গেট করে বাঘ হামলে পড়ে । এ সময়ে অপর সঙ্গিরা কাছাকাছি কেউ থাকলে চলে বাঘে মানুষে লড়াই। সঙ্গিরা দুরে থাকলে অথবা বাঘের প্রথম হামলাতেই কাবু হলে বাঘ সহজেই তাকে টেনে নিয়ে যায় জঙ্গলের আরও ভেতরে, কোন ঝোপে। অপর সঙ্গিরা একত্রিত হয়ে রক্ত এবং পায়ের ছাপ অনুসরণ করে দুই থেকে তিনঘন্টার ভেতরেই তাকে খুজে পায়। তখন তার ছিন্নভিন্ন দেহে আর প্রাণ থাকেনা।

মৌয়াল আব্দুল খালেক জানান, বাঘ কখনো সামনা সামনি আক্রমন করেনা। আক্রমনে উদ্ধত কোন বাঘের চোখে চোখ রেখে দলবদ্ধ ভাবে হাকডাক দিলে বাঘ ধীরগতিতে সরে যায়। তবে একজনের হাকডাকে বাঘ খুব একটা ভয় পায়না। আক্রমন করে বসে। তখন বাঘে মানুষে লড়াই হলেও মানুষটির বেঁেচ যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। আর পেছন থেকে হামলা করলে শতভাগ মানুষই মারা পরে।

সুন্দরবনের মৌয়ালরা আজও তাদের নিরাপত্তার জন্য গুণিন নামক একটি শ্রেনীর ওপর অবিচল আস্থা রাখে। নিরাপত্তার জন্য তারা বহরে একজন গুণিন রাখেন। তারা বিশ্বাস করে গুনিনের মন্ত্রমালাই জঙ্গলে তাদের জীবন নিরাপদ রাখতে পারে। তবে যখন কোন গুনিনের ওপরই বাঘ হামলা করে তখন এরা বলে, গুণিনের মন্ত্রে ভুল ছিল। মন্ত্র ভুল হলে গুণিন নিজেই হামলার শিকার হয়। তাই সে হামলার শিকার হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সুত্র থেকে জানানো হয়েছে, পদ্ধতির পরিবর্তণ না হওয়ায় সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহের পরিমান কমে যাচ্ছে। মৌয়ালরাও মধু সংগ্রহের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে নানা কারণে। দীর্ঘ অর্ধশতকেও মধু সংগ্রহের পুরানো পদ্ধতির পরিবর্তন হয়নি। প্রাকৃতিকভাবে মধু আহরণের অন্যতম প্রধান ত্রে সুন্দরবন। প্রতি বছর মৌসুমে এখান থেকে বিপুল পরিমান মধু আহরণ হলেও বর্তমানে নানা কারণে এর পরিমান কমছে। শুধু সৌন্দর্য নয়, অপার সম্পদেরও আধার সুন্দরবন। সেখানে রয়েছে নানা ধরণের প্রাকৃতিক সম্পদ। যার মধ্যে মধু এবং মোম অন্যতম। এখন চলছে মধু আহরণের ভরা মৌসুম। আনুপাতিক হারে সুন্দরবনে বাওয়ালী এবং জেলে তুলনায় মৌয়ালীর সংখ্যা খুবই কম। প্রতি মৌসুমে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের জন্য সাধারণত ১২ থেকে ১৫ হাজার মৌয়াল জঙ্গলে প্রবেশ করে।

সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহের েেত্র মধু আহরণকারীরা সচেতনতার অভাবে এখনো পুরানো পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যাপকহারে মৌমাছি নিধন করায় মৌমাছির বংশ বিস্তার ব্যাহত এবং ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে মধু উৎপাদন। সুন্দরবনের মধু প্রক্রিয়াজাত করে আরো উন্নত অবস্থায় বিদেশে রপ্তানির কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি।

বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের খলসি, গরান, গেওয়া, বাইন, কাঁকড়া, কেওড়া গাছে মৌমাছি অসংখ্য মৌচাক তৈরি করে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বছরের নির্ধারিত সময়ে সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ করে। প্রতিবছর সাধারণত ১ এপ্রিল থেকে ১৫ জুন এই আড়াই মাস মধু সংগ্রহের জন্য বনবিভাগ মধু আহরণের পাশ তথা পারমিট দিয়ে থাকে। এ বছর ২ এপ্রিল থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মধু সংগ্রহের পারমিট দেয়া হয়েছে। প্রতিবছর সাধারণত এ সময়ের ভেতরেই মধু সংগ্রহ করে থাকে মৌয়ালরা। মধুর জন্য মন প্রতি ২শ' টাকা এবং মোমের জন্য মন প্রতি ৩শ' টাকা করে বন বিভাগকে রাজস্ব দিতে হয়। মৌয়ালরা অজ্ঞতাবশত কম পরিশ্রমে বেশী মধু আহরণের জন্য অনেক সময়ে মৌচাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে অসংখ্য মৌমাছি মারা যায়। বাধাগ্রস্থ হয় মৌমাছির স্বাভাবিক বংশ বিস্তার । বনের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপরও সৃষ্টি হয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী আগুন ধরিয়ে নয়, শুধু ধোঁয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে মৌচাক থেকে মৌমাছি তাড়িয়ে দেওয়ার নিয়ম। বন রার এই নিয়ম তদারকি করার দায়িত্ব বনরীদের। কিন্তু বনরীরা তাদের এসব দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। তারা বিভিন্ন অজুহাতে মৌয়ালদের আহরিত মধুতে ভাগ বসায়। বন বিভাগের উধর্্বতন কর্মকর্তাদের নামে কয়েক হাজার মণ মধু মৌয়ালদের কাছ থেকে আদায় করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, মধু সংগ্রহ স্থানীয় মৌয়ালদের পুরানো পেশা হলেও সচেতনতার অভাবে তাদের মধু সংগ্রহের পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত নয়। অনেকে পুরো চাক কেটে নিয়ে আসে। আবার যে অংশে মধু থাকে সেটা বাদেও মৌমাছির বাসার অংশ থেকে মধু সংগ্রহের চেস্টা করার ফলে মধুর মান খারাপ হয়ে যায়। মধু সংগ্রহের মৌসুমে ব্যাপকভাবে পুরো চাক নষ্ট করার কারণে মৌমাছির সংখ্যা ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছে। তাছাড়া যেভাবে আগুনের সাহায্যে ধোঁয়া দেওয়া হয় তাতেও অনেক মৌমাছি মারা যায়। গত মৌসুমে সুন্দরবন থেকে মাত্র ২ হাজার ৫৭০ মণ মধু ও ৬৪২ মণ মোম সংগৃহীত হয়। যা থেকে বনবিভাগ মোট ৭ লাখ ৬ হাজার ৫শ' টাকা রাজস্ব আয় করে। অথচ ১৫ বছর আগে ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে ৪ হাজার ৪৪৫ মণ মধু ও এক হাজার ১৩৫ মণ মোম সংগ্রহ করা হয়। প্রকৃতিক নিয়মে মধু সংগ্রহের পরিমান বাড়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত মধুর পরিমান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। পেলেও এ বছর ধারণা করা হচ্ছে মুধ সংগ্রহ বেশী হবে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সুন্দরবন থেকে মধু আহরণের পরিমান বেড়ে যায়। তবে গত বছর ২০০৬ সালে সুন্দরবনে মুধ আহরণ কমে যায়। গত বছর সুন্দরবন থেকে মধু ও মোম সংগ্রহে মাত্র ৬৬ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এতে মধু ছিল ২৪০ মন এবং মোম ছিল ৬০ মন। এদিকে চলতি বছর ২০০৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সুন্দরবন পুর্ব বিভাগে মধু ও মোম সংগ্রহের পরিমান ছিল প্রায় তিনগুন। যার পরিমান ৬৪১ মন মধু ও ১৬০ মন মোম। রাজস্ব আদায়ের পরিমান ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বৃষ্টি কম হলে মধুর উৎপাদন কমে যায় বলে মৌয়ালীরা জানান। বৃষ্টি বেশী হলে মধু আহরণ বাড়ে।

খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৌয়াল আইউব আলী জানান, সুন্দরবনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিধনের ফলে মৌমাছিরা আগের মতো মৌচাক তৈরির সুযোগ পায় না। তাছাড়া আগুন দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে মৌমাছি হত্যা করে মধুর চাক ভাঙ্গার কারণে চাক কমে যাচ্ছে। গত ১০ বছর আগে সুন্দরবন থেকে যে পরিমান মধু সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল, এখন সেই পরিমান মধু হয় না। চাহিদা মতো মধু না হওয়ায় মৌয়ালরা মধু আহরণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

সন্দুরবন বিভাগ পুর্ব অফিসের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোজহারুল ইসলাম জানান, বনের ভেতরে মধু আহরণের সময়ে জঙ্গলের ভেতরে বাঘের হামলার ব্যাপারে মৌয়ালীদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। তবে বনে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময়ে তারা মৌয়ালীদের বহরকে বনবিভাগের সশস্ত্র নৌযান দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হয়। তিনি জানান, মৌয়ালীদের ব্যাপারে বনবিভাগের স্থানীয় অফিসের উদ্যোগে সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্সের সাথে একটি বীমা চুক্তি হয়েছে। এতে মৌয়ালীরা প্রতি বছর সরকারি রাজস্বের সাথে ১শ' টাকা করে প্রিমিয়াম দেবে। বাঘের আক্রমনে বা অন্য কোন কারণে কোন মৌয়ালীর প্রাণ হানি ঘটলে প্রতিজন মৌয়ালীর নমিনি ২৫ হাজার করে টাকা পাবে। এ ছাড়াও তিনি সুন্দরবন থেকে সম্পদ আহরনে নিয়োজিত মৌয়ালী, জেলে বা বাওয়ালীদের নিরাপত্তা মুলক নানা ব্যবস্থার কথার জানিয়েছেন। ডিএফও বলেন, জেলেদের সুপেয় পানি নিশ্চিত করার জন্য সুন্দরবনে বেশ কয়েকটি মিষ্টি পানির পুকুর খনন করা হয়েছে।

২০০৩ সালে প্রণীত দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্রের পলিসি এজেন্ডায় দরিদ্রের জন্য টেকসই জীবিকার নিশ্চিত করতে সম্পদের মালিকানার অধিকার স্পষ্ট করণের কথা বলা হয়েছে। যেমন জলমহাল ও বনের লীজ প্রদান, প্রকৃতিক সম্পদ সংগ্রহে দরিদ্রের সুযোগ বৃদ্ধি, বিশেষ করে বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দরিদ্রের সুযোগ বৃদ্ধি। সাধারণ সম্পদে গরীবের অধিকার সংরনের জন্য প্রকল্প ও কর্মসুচি গ্রহণ। বনজ সম্পদে দরিরদ্রদের অভিগম্যতার সুযোগ বাড়াতে অংশগ্রহণমূলক বণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রবর্তণ করার পরিকল্পনাসহ আরও একাধিক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে সেই সব পরিকল্পনা গত ৪ বছরে কাগজে কলমেই রয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ের বন কর্মকর্তারাও সরকারের প্রণীত দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্রে এ সম্পকির্ত কি ধরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানেন না। সন্দুরবন বিভাগ পুর্ব অফিসের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেছেন, বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। তবে সরকারের সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন নিদের্শনা নেই।

 
PREVIOUS ISSUE
Environmental Justice Conflict resolution & peace  
   
   
House - 35, Flat-D5, Road-12A (new) Dhanmondi R/A, Dhaka-1209, Bangladesh.
Published and edited by : Shahjahan Siraj , Cell: (+88) 01715212204; Tel: + 88-02-9119846